সৌদি আরবের উত্তরের গুহা নেটওয়ার্কে প্রাপ্ত প্রাচীন চিতা হাড় ও মমির জেনেটিক তথ্য, আধুনিক উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা ও ইরানের চিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রকাশ করেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ডেটা ভবিষ্যতে আরব উপদ্বীপে চিতা পুনঃপ্রবর্তনের ভিত্তি হতে পারে।
বিশ্বের দ্রুততম স্থল প্রাণী চিতা, একসময় আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা যেত। তবে গত কয়েক দশকে তাদের বাসস্থান ৯০ শতাংশেরও বেশি হারিয়ে গেছে; বর্তমানে প্রধানত আফ্রিকায় সীমিত জনসংখ্যা এবং ইরানে মাত্র সত্তরটিরও কম বাকি আছে। আরব উপদ্বীপে শেষ চিতা ১৯৭০-এর দশকে দেখা গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
২০২২ ও ২০২৩ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত জাতীয় বন্যপ্রাণী কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা উত্তরের ১৩৪টি গুহা পরিদর্শন করেন। এই অনুসন্ধানে পাঁচটি গুহায় চিতার হাড় ও মমি পাওয়া যায়, যা প্রায় একশত বছরেরও বেশি পুরনো বলে অনুমান করা হচ্ছে।
গুহা সমীক্ষায় মোট ৫৪টি হাড়ের সংগ্রহ এবং সাতটি প্রাকৃতিকভাবে শুষ্ক হয়ে মমি রূপে রক্ষিত উদাহরণ সনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, চিতাগুলি গুহায় পড়ে গিয়ে বের হতে না পারায় তাদের মৃত্যু ঘটেছিল।
শূন্যতা ও তাপমাত্রার চরম পরিবেশের ফলে দেহের জলে থাকা সব উপাদান দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে হাড় ও ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষণ করেছে। ফলে DNA বিশ্লেষণের জন্য যথেষ্ট জৈবিক উপাদান পাওয়া সম্ভব হয়েছে, যা আগে কঠিন বলে ধরা হতো।
বিশ্লেষণ ফলাফল দেখায়, এই প্রাচীন আরবীয় চিতার জিনোম উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় বর্তমান চিতার সঙ্গে এবং ইরানের বেঁচে থাকা এশীয় চিতার সঙ্গে উচ্চ মাত্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে এই প্রজাতি একক নয়, বরং দুইটি জীবিত উপপ্রজাতিতে ভাগ করা যায়।
এই জেনেটিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতে আরব উপদ্বীপে নতুন চিতা জনসংখ্যা গড়ে তোলার জন্য এই প্রাচীন জিনের ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে ইরানের এশীয় চিতা ও আফ্রিকান চিতার জেনেটিক বৈচিত্র্যকে সমন্বয় করে একটি স্বাস্থ্যময় বংশধর গঠন করা সম্ভব হতে পারে।
তবে পুনঃপ্রবর্তনের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান, পর্যাপ্ত শিকারী প্রাণী এবং মানব-প্রাণী সংঘাত কমানোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। গুহা থেকে প্রাপ্ত নমুনা শুধুমাত্র জিনগত সম্ভাবনা দেখায়; বাস্তবিকভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নীতি, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা ছাড়া প্রকল্পটি সফল হবে না।
সৌদি আরবের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা ইতিমধ্যে এই সম্ভাব্য প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। পূর্বে ২০২৬ সালে চিতা পুনঃপ্রবর্তনের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছিল, এবং এই নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য সেই পরিকল্পনাকে শক্তিশালী করে।
অবশেষে, প্রাচীন গুহা থেকে উদ্ভূত এই জেনেটিক ধনভাণ্ডার আরবীয় বন্যপ্রাণীর ইতিহাসকে পুনরায় লিখতে পারে। তবে সফল পুনঃপ্রবর্তনের জন্য বিজ্ঞান, নীতি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
আপনার মতামত কী? আরব উপদ্বীপে চিতা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য কোন পদক্ষেপগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?



