আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এফবিসি) বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, কাবুলের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় একটি নতুন নীতি অনুমোদন করেছে। এই নীতি অনুসারে দেশের ক্রিকেটাররা শুধুমাত্র আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল) এবং বছরে সর্বোচ্চ তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি২০ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন। সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড়ের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এফবিসি এই নীতিটি তার বার্ষিক সাধারণ সভায়, চেয়ারম্যান মিরওয়াইস আশরাফের নেতৃত্বে গৃহীত হয়। সভায় বোর্ডের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে অতিরিক্ত টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ফলে খেলোয়াড়ের ক্লান্তি বাড়ে এবং জাতীয় দায়িত্বে পারফরম্যান্স হ্রাস পেতে পারে। তাই কাজের ভার সামলাতে এবং শীর্ষ পর্যায়ে পারফরম্যান্স বজায় রাখতে এই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
বোর্ডের একটি প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “খেলোয়াড়ের ফিটনেস ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য বিদেশি লিগ সংক্রান্ত নতুন নীতি অনুমোদিত হয়েছে।” এই বাক্যটি এফবিসির আনুষ্ঠানিক স্বরূপকে তুলে ধরে এবং নীতির মূল উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে।
নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি খেলোয়াড়রা প্রতি বছর সর্বোচ্চ তিনটি বিদেশি টি২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিতে পারবেন। এই তিনটি লিগের নির্বাচন খেলোয়াড়ের নিজস্ব ইচ্ছা ও বোর্ডের অনুমোদনের ভিত্তিতে হবে, তবে অতিরিক্ত অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রশিদ খান, নূর আহমদ, মুজিব উর রহমান, এএম গাজানফার এবং রহমানুল্লাহ গুরবাজের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে সরাসরি প্রভাব পড়বে। তারা বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টি২০ লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আয় করে থাকেন, এবং নতুন সীমাবদ্ধতা তাদের আয় ও ম্যাচের অভিজ্ঞতাকে সীমিত করতে পারে।
আর্থিক দিক থেকে এফবিসি উল্লেখ করেছে যে, যদিও এই নীতি খেলোয়াড়দের আয়কে কিছুটা কমাতে পারে, তবু দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের রক্ষায় এটি উপকারী হবে। বোর্ডের মতে, স্বল্পমেয়াদী ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্সের উন্নতির জন্য গ্রহণযোগ্য।
নিয়মে একটি অতিরিক্ত ধারা যোগ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশি কোচিং স্টাফকে প্রয়োজনমতো আফগানিস্তানে আসার অনুমতি থাকবে। এই ব্যবস্থা দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে বলে বোর্ড আশা প্রকাশ করেছে।
এফবিসি নেতৃত্বকে এপিএল পুনরায় চালু করা এবং দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোতে বড় প্রকল্পের সূচনা করার জন্য প্রশংসা করা হয়েছে। নতুন স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং আধুনিক সুবিধা গড়ে তোলার কাজ চলমান, যা দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
বোর্ডের এই পদক্ষেপকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নীতি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এফবিসি উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্যের ভিত্তিতে নীতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে।
নতুন নীতির কার্যকরী তারিখ ও বিস্তারিত নির্দেশনা শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে, যাতে সব সংশ্লিষ্ট পক্ষ সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারে। এফবিসি আশা করে যে, এই ব্যবস্থা দেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে এবং খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, এফবিসি এখন থেকে খেলোয়াড়দের বিদেশি টি২০ লিগে অংশগ্রহণকে তিনটি টুর্নামেন্টে সীমাবদ্ধ করে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে, একই সঙ্গে কোচিং স্টাফের দেশে আসার সুযোগ নিশ্চিত করে স্থানীয় প্রতিভা বিকাশে মনোযোগ বাড়িয়েছে।



