ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CWAB) বৃহস্পতিবারের শের‑এ‑বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্ধারিত BPL খোলার ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে, ফলে কোনো দলই সময়মতো স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়নি। খেলোয়াড়রা বয়কটের মূল দাবি হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) ফাইন্যান্স কমিটি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলামকে পদত্যাগের আহ্বান জানায়, যাকে তারা ‘হুমকির মুখে’ এবং ‘অবমাননা’ করা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
CWAB ১৪ জানুয়ারি জানিয়েছিল যে নাজমুলের পদত্যাগ না হলে খেলোয়াড়রা BPL‑এর প্রথম ম্যাচে অংশ নেবে না। ঐ ম্যাচটি দুপুর ১টায় নোয়াখালি এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যে শের‑এ‑বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বয়কটের পূর্বে BCB ও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি বৈঠক হয়, তবে তা কোনো ফলাফল না দিয়ে শেষ হয়।
বৈঠকের পর, CWAB বিকেল ১টায় শহরের একটি হোটেলে তৎক্ষণাৎ একটি প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করে। সেখানে তারা তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এবং নাজমুলের পদত্যাগ না হলে ম্যাচ চালু হবে না বলে পুনরায় জোর দেয়। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামে কোনো দলই উপস্থিত হতে পারেনি, ফলে ম্যাচের সূচি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়ে যায়।
BCB তৎক্ষণাৎ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বোর্ডের একজন সদস্যের আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ক্রিকেটের পেশাদারিত্ব, খেলোয়াড়ের প্রতি সম্মান ও গেমের মূল্যবোধ রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বোর্ড উল্লেখ করে যে, সংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তারা বিষয়টি নিয়ম ও প্রোটোকল অনুসারে সমাধান করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, নাজমুলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। তাকে শো‑কজ লেটার পাঠিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত উত্তর দিতে বলা হয়েছে। প্রক্রিয়ার ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে BCB বিষয়টি আইনি ও নীতিগতভাবে সমাধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বয়কটের ফলে শের‑এ‑বাংলা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত প্রথম ম্যাচের সূচি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। যদিও BCB ম্যাচের সময়সূচি রক্ষা করার চেষ্টা করছে, তবে খেলোয়াড়দের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোও প্রভাবিত হতে পারে। বর্তমানে BCB ও CWAB উভয় পক্ষই সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা পৌঁছায়নি।
এই পরিস্থিতি BPL‑এর শুরুর দিকে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করেছে এবং ভক্তদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়েছে। স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি ও টিকিটের রিফান্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলোও এখনো পরিষ্কার হয়নি। ভবিষ্যতে কীভাবে পরিস্থিতি উন্নত হবে তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের আলোচনার ফলাফলের উপর।
পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে BCB ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে, শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই ম্যাচগুলো পুনরায় চালু করা হবে। খেলোয়াড়দের দাবি ও বোর্ডের শৃঙ্খলা পদক্ষেপের মধ্যে সমন্বয় ঘটলে BPL‑এর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে।
এই ঘটনার পর, ক্রিকেট ভক্ত ও মিডিয়া উভয়ই BCB‑এর সিদ্ধান্ত ও CWAB‑এর দাবির প্রতি নজর রাখছে। উভয় পক্ষের সমঝোতা না হলে BPL‑এর শুরুর দিনগুলোতে আরও বিলম্বের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।



