19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিপ্রোবায়োটিক দিয়ে তামা উৎপাদন বাড়াতে স্টার্টআপের নতুন পদ্ধতি ও বিনিয়োগ

প্রোবায়োটিক দিয়ে তামা উৎপাদন বাড়াতে স্টার্টআপের নতুন পদ্ধতি ও বিনিয়োগ

বিশ্বব্যাপী তামার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহের ঘাটতি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে চাহিদা সরবরাহকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাবে, ফলে তামার দাম দ্রুত উর্ধ্বগামী হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে তামা উৎপাদন বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি খোঁজার জন্য বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়। উদাহরণস্বরূপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক খনিজ স্টার্টআপ কোবোল্ড গত বছর জাম্বিয়ার একটি তামা খনি থেকে তামা আহরণের জন্য ৫৩৭ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে।

তবে তামা উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াতে মাইক্রোবিয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করার ধারণা সাম্প্রতিক সময়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ট্রানজিশন মেটাল সলিউশনস নামে একটি নতুন স্টার্টআপ দাবি করছে যে, মাইক্রোবের কার্যক্ষমতা বাড়াতে নির্দিষ্ট যোগিক (অ্যাডিটিভ) ব্যবহার করলে তামা উত্তোলন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

এই পদ্ধতিকে প্রায়শই “প্রোবায়োটিক” বলা হয়, কারণ এটি মাইক্রোবের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে তাদের লিচিং ক্ষমতা বাড়ায়। কোম্পানি এই প্রযুক্তি বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে ছয় মিলিয়ন ডলার সিড রাউন্ড সংগ্রহ করেছে।

বিনিয়োগ রাউন্ডটি ট্রানজিশন ভেঞ্চার্সের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয় এবং এতে অ্যাস্টর ম্যানেজমেন্ট এজি, ক্লাইমেট ক্যাপিটাল, ডলবি ফ্যামিলি ভেঞ্চার্স, এসেনশিয়াল ক্যাপিটাল, জুনিপার ভিসি, কায়াক ভেঞ্চার্স, নিউ ক্লাইমেট ভেঞ্চার্স, পসিবল ভেঞ্চার্স, এসওএসভি এবং আন্ডারস্টোরি ভেঞ্চার্সসহ বহু প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।

মাইক্রোব তামা খনি শিল্পে দীর্ঘদিন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা তামার খনিজ রূপকে ভেঙে শুদ্ধ ধাতুতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে, ফলে খনির উৎপাদনশীলতা বাড়ে।

অনেক কোম্পানি পূর্বে মাইক্রোবের নির্দিষ্ট স্ট্রেইন আলাদা করে বা জেনেটিকভাবে পরিবর্তন করে তামা উত্তোলন বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এই স্ট্রেইনগুলোকে বড় পরিমাণে চাষ করে খনি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া হতো, যাতে তারা খনিজের সঙ্গে মিশে কাজ করতে পারে।

তবে এই প্রচলিত পদ্ধতি প্রায়শই প্রত্যাশিত ফল না দিয়ে শেষ হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু উন্নতি দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমে যায়, অথবা কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায় না।

ট্রানজিশন মেটাল সলিউশনসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সাশা মিলশটেইন এই সমস্যার মূল কারণকে মাইক্রোবের পরিবেশগত শর্তের অপ্রতুলতা হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেন, মাইক্রোবকে শুধুমাত্র বড় পরিমাণে ছড়িয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়; তাদের কার্যক্ষমতা বাড়াতে উপযুক্ত পুষ্টি ও সহায়ক উপাদান প্রয়োজন।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে কোম্পানি নির্দিষ্ট অ্যাডিটিভ ব্যবহার করে মাইক্রোবের বৃদ্ধির গতি ও লিচিং ক্ষমতা বাড়ানোর পদ্ধতি বিকাশ করেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি তামা উত্তোলনের হারকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে, যা শিল্পের ভবিষ্যৎ ঘাটতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বের তামা চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের উদ্ভাবনী সমাধানগুলোর গুরুত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি মাইক্রোবের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তামা উৎপাদন বাড়ানো যায়, তবে তামার দামের অস্থিরতা কমে যাবে এবং ইলেকট্রিক গাড়ি, ডেটা সেন্টার ও নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তামা সরবরাহে স্থিতিশীলতা আসবে।

ট্রানজিশন মেটাল সলিউশনসের তহবিল সংগ্রহের পরবর্তী ধাপ হল এই প্রযুক্তি বৃহৎ খনি প্রকল্পে প্রয়োগ করা এবং শিল্পের অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করা। কোম্পানি ইতিমধ্যে কয়েকটি বড় তামা খনি সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই উদ্যোগের সফলতা তামা শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠন এবং পরিবেশগত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উৎপাদন পদ্ধতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তামা ঘাটতি মোকাবেলায় মাইক্রোবের ব্যবহার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, যা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments