জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর সম্প্রতি টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে দেশের কয়েকজন শীর্ষ শিল্পীর সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তর সেশন পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে তিনি শাকিব খান, জেমস এবং পরীমণি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত ব্যক্তিত্বকে সম্বোধন করে তাদের পেশাগত ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। আসিফের প্রশ্নগুলো মূলত শিল্পীর দায়িত্ব, স্বরগত মানদণ্ড এবং সামাজিক অংশগ্রহণের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
শাকিব খানের সঙ্গে আলাপের সময় আসিফ গানের ও ডায়ালগের স্বরগত পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, শাকিবের ডায়ালগে স্বর একরকম হলেও গানের সময়ে তার কণ্ঠে হালকা নারীত্বের ছাপ দেখা যায়, যা তিনি ‘গলা চিকন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এ থেকে তিনি জানতে চান, বর্তমান প্লেব্যাক শিল্পে স্বরগত মানদণ্ড বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং শাকিব এই পরিবর্তনকে কীভাবে গ্রহণ করছেন।
আসিফের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি প্লেব্যাক শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাকরণগত নিয়মের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন যে, গায়ক ও সুরকারদের এই কাঠামো মেনে চলা উচিত। তিনি শাকিবকে প্রশ্ন করেন, বর্তমান গানের টোনে কাজ করা অন্যান্য শিল্পীর সঙ্গে সমন্বয় কতটা সঠিকভাবে হচ্ছে। এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি শিল্পের গুণগত মান উন্নয়নে সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
পরবর্তী অংশে আসিফ জেমসকে লক্ষ্য করেন, যাকে তিনি দেশের অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জেমসের সামাজিক সক্রিয়তা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, যদিও জেমস ফেসবুকে নানা বিষয় শেয়ার করেন, তবু শিল্পী ও দেশের সংকট নিয়ে সরাসরি কথা বলার দৃশ্য কম দেখা যায়। আসিফ জিজ্ঞাসা করেন, এই নীরবতার পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং তিনি কীভাবে শিল্পী সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলোকে সামনে আনতে পারেন।
জেমসের উত্তর না দিলেও, আসিফের প্রশ্নটি শিল্পী হিসেবে সামাজিক দায়িত্বের প্রতি জনমতকে উস্কে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহৎ পরিসরে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের উচিত দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও সংকটে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি শিল্পের বাইরে নাগরিক সচেতনতার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেন।
পরীমণির সঙ্গে কথোপকথনে আসিফের স্বর কিছুটা তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। তিনি পরীমণিকে ‘খামখেয়ালি’ বলে বর্ণনা করে, তার থেকে প্রত্যাশা করেন যে তিনি কখনো না কখনো সমাজকে ‘মুক্তি’ দেবেন। এছাড়া তিনি পরীমণিকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে আহ্বান জানান, কীভাবে তিনি এই লক্ষ্য অর্জন করবেন তা জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
আসিফের এই প্রশ্নগুলো মূলত শিল্পী ব্যক্তিত্বের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্বের ওপর কেন্দ্রীভূত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে নৈতিক ও শিল্পগত মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি, যাতে শিল্পের সুনাম ও জনমত উভয়ই সমৃদ্ধ হয়। তার মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
সাক্ষাৎকারটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে শাকিবের স্বরগত পরিবর্তন এবং জেমসের সামাজিক অবস্থান নিয়ে মতবিনিময় চলেছে। শিল্পের অভ্যন্তরে এই ধরনের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের উপস্থিতি ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। আসিফের এই উদ্যোগকে শিল্পের স্বচ্ছতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।



