যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা‑তে তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর তিন দিন পর, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করে। এই অনুষ্ঠানটি দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই দেশের কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও মজবুত করার সংকল্পের অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পরিচয়পত্র পেশের সময় ক্রিস্টেনসেন বললেন, “আজ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরিচয়পত্র পেশ করতে পেরে আমি গর্বিত। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাংলাদেশকে বন্ধু হিসেবে গণ্য করা গর্বের বিষয়।” তিনি ৫০ বছরের বেশি সময়ের অংশীদারিত্বে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন।
ক্রিস্টেনসেনের এই মন্তব্যে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র‑বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
এটি ক্রিস্টেনসেনের প্রথমবারের মতো ঢাকা‑তে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন নয়। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করেছেন, যেখানে তিনি দ্বিপাক্ষিক নীতি ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলো তদারকি করতেন।
গত সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ক্রিস্টেনসেনকে “অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রা অর্ডিনারি অ্যান্ড প্লেনিপটেনশিয়ারি” হিসেবে মনোনয়ন করেন। পরের মাসে মার্কিন সেনেটের অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর ক্রিস্টেনসেন এবং তার স্ত্রী জানিয়েছেন, “আমরা এমন একটি দেশে ফিরে এসে আনন্দিত, যেখানে আমাদের বহু সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।” এই ব্যক্তিগত মন্তব্যটি তাদের নতুন দায়িত্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পিটার হাসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হাস ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আগে, ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালের আগস্ট থেকে জানুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিরোধ মিশনের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে পরামর্শ দিতেন।
দুই দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ওয়াশিংটন ও বিভিন্ন বিদেশী মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তার অভিজ্ঞতা নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মার্কিন রাজনৈতিক‑সামরিক ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর দপ্তরের উপপরিচালক হিসেবে তিনি উত্তর কোরিয়া নীতির জন্য বিশেষ প্রতিনিধির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, যা তার নিরাপত্তা বিষয়ক দক্ষতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ক্রিস্টেনসেনের প্রধান লক্ষ্য হবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানো, বিশেষ করে বাণিজ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে। উভয় দেশের সরকার ইতিমধ্যে এই দিকগুলোতে নতুন উদ্যোগের পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র‑বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যা উভয় দেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।



