মিরপুর শের‑ই‑বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা বিপিএল ম্যাচের প্রস্তুতি ভেঙে গিয়েছে। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দর্শকদের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কি দেখা যায়।
বিসিবি পরিচালকের পদত্যাগের দাবি নিয়ে ক্রিকেটাররা ম্যাচ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই পদক্ষেপের ফলে ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত তৈরি হয় এবং তারা স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বার থেকে ম্যাচের বাতিল হওয়ার প্রতিবাদে জমায়েত হয়।
দুপুরের সময় দর্শকরা স্টেডিয়ামের গেটের দিকে অগ্রসর হয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিছুজন গেটের সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গেটের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের সঙ্গে ধাবিত হয়ে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গতি ও চিৎকারের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য ধাবা-পাল্টা চলতে থাকে।
দর্শকদের মধ্যে কয়েকজন লাঠি ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিরোধের চিহ্ন দেখায়। তবে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং পরিস্থিতি শীতল করতে পদক্ষেপ নেয়।
মিরপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম আজম জানান, এক পর্যায়ে দর্শকরা সরে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বর্তমানে স্টেডিয়ামের আশেপাশে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দর্শকরা কিছু সমস্যার সৃষ্টি করলেও এখন কোনো বিশাল বিশৃঙ্খলা দেখা যায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এই ঘটনার পরেও কোনো দর্শককে গ্রেফতার করা হয়নি। ওসি স্পষ্ট করে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের ফলে কোনো আটক বা জেল শাস্তি আরোপ করা হয়নি।
ক্রিকেটাররা তাদের বয়কটের অবস্থান অটল রেখেছেন এবং এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ম্যাচে অংশ নেবেন না বলে পুনরায় জোর দিয়েছেন। তাদের এই দৃঢ়তা বিসিবির সিদ্ধান্তের পরেও অব্যাহত রয়েছে।
বিসিবি অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুলকে পদ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া সত্ত্বেও, ক্রিকেটাররা এখনও দ্বিতীয় ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য সাড়া দেননি। এই পদক্ষেপের পরেও তাদের প্রত্যাশা স্পষ্ট যে, নাজমুলের পদত্যাগের নিশ্চিতিকরণ ছাড়া তারা মাঠে ফিরে আসবে না।
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন উল্লেখ করেন, শুধু পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়; নাজমুলের স্বেচ্ছা পদত্যাগের নিশ্চয়তা চাই। তিনি বলেন, এই শর্ত পূরণ না হলে খেলোয়াড়দের বয়কট অব্যাহত থাকবে।
বিপিএল ঢাকা পর্বের সূচি অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্ধারিত ছিল, আর দ্বিতীয় ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, ম্যাচের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।



