22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিপিএল দ্বিতীয় ম্যাচও স্থগিত, খেলোয়াড়দের বয়কটে পরিচালকের পদত্যাগের দাবি

বিপিএল দ্বিতীয় ম্যাচও স্থগিত, খেলোয়াড়দের বয়কটে পরিচালকের পদত্যাগের দাবি

ঢাকা পর্বের বিপিএল টুর্নামেন্টে ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা দ্বিতীয় ম্যাচও খেলোয়াড়দের বয়কটের ফলে মাঠে গড়ায়নি। বয়কটের মূল কারণ হল বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ না করা, যা নিয়ে খেলোয়াড়রা স্পষ্টভাবে অবিচল অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতি টুর্নামেন্টের শিডিউলকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে এবং ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সেই দিনের প্রথম ম্যাচ, নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যে নির্ধারিত, কোনো খেলোয়াড় উপস্থিত না হওয়ায় বাতিল হয়ে যায়। উভয় দলে থাকা খেলোয়াড়রা মাঠে পা না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, ফলে ম্যাচের সূচনা সময়ই ঘোষণা করা হয় না। ম্যাচের স্থগিত হওয়া টুর্নামেন্টের সামগ্রিক প্রবাহে একটি বড় ফাঁক তৈরি করেছে।

প্রথম ম্যাচের পরেই সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মধ্যে নির্ধারিত দ্বিতীয় ম্যাচও একই কারণে গড়ায়নি। দুই দলে থাকা সব খেলোয়াড়ই বয়কট বজায় রাখার জন্য মাঠে না গিয়ে বিরোধের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে, দু’টি ম্যাচের ধারাবাহিকতা ভাঙে এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হয়।

খেলোয়াড়দের বয়কটের পেছনে রয়েছে পরিচালকের পদত্যাগের দাবি, যা তিনি এখনও অস্বীকার করছেন। এম নাজমুল ইসলাম তার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ না করলে, খেলোয়াড়রা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বন্ধ রাখবে বলে জানিয়েছে। এই অবস্থায় টুর্নামেন্টের অগ্রগতি থেমে যায় এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে।

বিসিবি এই সংকট সমাধানের জন্য ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে উভয় পক্ষই বর্তমান অবস্থা, খেলোয়াড়দের দাবি এবং পরিচালকের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। বৈঠকের ফলাফল টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিসিবি তৎকালীন পদক্ষেপ হিসেবে পরিচালকের আর্থিক কমিটির প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করে। এই সিদ্ধান্তটি বিসিবি সংবিধানের ধারা ৩১ অনুযায়ী বোর্ডের সভাপতি কর্তৃক নেওয়া হয়, যা তিনি তৎক্ষণাৎ কার্যকর করেন। ফলে, এম নাজমুল ইসলাম আর আর্থিক কমিটির দায়িত্বে থাকবেন না, যদিও তিনি এখনও পরিচালকের পদে রয়েছেন।

ধারা ৩১ অনুসারে, সভাপতি এখন পর্যন্ত আর্থিক কমিটির দায়িত্বে অস্থায়ীভাবে কাজ করবেন। তিনি নিজেই ফাইন্যান্স কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভূমিকা গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব বজায় রাখবেন। এই ব্যবস্থা টুর্নামেন্টের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

বয়কটের প্রভাব টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও দেখা যাবে। এখন পর্যন্ত নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী, পরবর্তী খেলাগুলো পুনরায় নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে, তবে তা নির্ভর করবে কোয়াব ও বিসিবি কর্তৃক গৃহীত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। খেলোয়াড়দের বয়কট অব্যাহত থাকলে, টুর্নামেন্টের সম্পূর্ণ সমাপ্তি পর্যন্ত আরও ম্যাচ স্থগিত হতে পারে।

বিসিবি ও কোয়াবের মধ্যে চলমান আলোচনার মূল লক্ষ্য হল খেলোয়াড়দের উদ্বেগ দূর করা এবং টুর্নামেন্টকে পুনরায় চালু করা। উভয় পক্ষই সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধান বের করার চেষ্টা করছে, যাতে ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ হয় এবং টুর্নামেন্টের সুনাম রক্ষা পায়। এই প্রক্রিয়ায় পরিচালকের পদত্যাগের বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

সামগ্রিকভাবে, বিপিএল ঢাকা পর্বের এই দুইটি ম্যাচের স্থগিত হওয়া টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং খেলোয়াড়-পরিচালক সম্পর্কের জটিলতা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে কীভাবে পরিস্থিতি উন্নত হবে তা নির্ভর করবে বিসিবি ও কোয়াবের সমন্বিত পদক্ষেপের উপর, পাশাপাশি খেলোয়াড়দের বয়কটের ধারাবাহিকতা কি থাকবে তার ওপর। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments