ইউজেনি লে সামার, ফ্রান্সের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ফুটবলার, লিগা এমএক্স ফেমেনিলের টলুকা ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। তিনি লাতিন আমেরিকায় প্রথম পূর্ণ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু করেছেন, যা তাকে ইউরোপীয় ফুটবলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা একটি পরিবেশে নিয়ে গেছে।
লিগা এমএক্স ফেমেনিলকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ‑ছয়টি নারী ফুটবল লিগের মধ্যে গণ্য করা হয়। এই লিগে ১৮টি দল রয়েছে, প্রত্যেক দল একে অপরের সঙ্গে একবার করে খেলে, তবে দুটি আলাদা প্রতিযোগিতা – অ্যাপারচারা ও ক্লসুরা – তে মোট ৩৪টি ম্যাচ হয়। ফলে একটি ক্যালেন্ডার বছরে ইউরোপীয় লিগের তুলনায় বেশি খেলা হয়।
প্রতিটি ম্যাচে হাজারো দর্শক উপস্থিত থাকে, আর বেতন কাঠামো এমন যে কিছু শীর্ষ খেলোয়াড়কে আকৃষ্ট করতে সক্ষম। লিগটি মাত্র এক দশকেরও কম সময়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
লে সামার ১৫ বছর লি অনের সঙ্গে কাটিয়ে ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়লাভের পর ক্লাব ছেড়ে নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধান করেন। তিনি ইউরোপ ছেড়ে মেক্সিকোতে আসা কঠিন সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন, তবে শেষের দিকে ক্যারিয়ারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও জীবনধারা চাওয়ায় এই পদক্ষেপটি তার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করেন।
টলুকা ক্লাব, যদিও দেশের শীর্ষ দল নয়, তবে নভেম্বরের অ্যাপারচারায় চতুর্থ স্থান অর্জন করে এবং চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে‑অফের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বেরিয়ে আসে। ক্লাবের এই সাফল্যে লে সামার এবং তার সহকর্মী আমান্ডিন হেনরি, ফস্টিন রবার্টের যোগদান বড় ভূমিকা রাখে।
ক্লসুরা মৌসুমের সূচনা গত সপ্তাহে হয়, এবং টলুকা ইতিমধ্যে দুইটি ম্যাচ জিতেছে। প্রথম ম্যাচে টলুকা ৫-৩ স্কোরে বিজয়ী হয়, যেখানে লে সামার তিনটি গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। এই পারফরম্যান্স তার নতুন দলের জন্য শক্তিশালী সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লিগা এমএক্স ফেমেনিলের এই সময়ে ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের আগমন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। লে সামার এবং হেনরির আগমনের আগে ইতিমধ্যে কয়েকজন ফরাসি খেলোয়াড় লিগে অংশগ্রহণ করেছেন, যা লিগের আন্তর্জাতিক আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে।
ক্লাবের কোচ প্যাট্রিস লেয়ার, যিনি নিজেও ফরাসি, লে সামার এবং হেনরির উপস্থিতিকে টলুকার কৌশলগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন, এই ধরনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দলকে আক্রমণাত্মকভাবে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
লিগের কাঠামো ও প্রতিযোগিতার ঘনত্বের কারণে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি উচ্চমানের হতে হয়। টলুকা দলের বর্তমান ফর্ম দেখায় যে তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম।
আসন্ন ম্যাচগুলোতে টলুকা ক্লাবের লক্ষ্য হবে ধারাবাহিক জয় বজায় রাখা এবং ক্লসুরা শিরোপা জেতা। লে সামার এবং তার সহকর্মীদের পারফরম্যান্স দলকে শীর্ষে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লিগা এমএক্স ফেমেনিলের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক, যেখানে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের আগমন এবং বাড়তে থাকা দর্শকসংখ্যা লিগকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। টলুকা এবং লে সামারের সমন্বয় এই প্রবণতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়।



