গুলশানের বিএনপি নির্বাচনী কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে সমান সুযোগের ভিত্তিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা জনগণের মৌলিক প্রত্যাশা। তিনি সতর্ক করেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিভিন্ন উপায়ে এই সমতা নষ্টের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে পারে।
মাহ্দী আমিনের মতে, কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে নিজের স্বার্থ অর্জনের চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদেরকে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে শপথ করিয়ে ভোটের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা নির্বাচন আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।
এছাড়া, তিনি জানান, ঐ দল ঘরোয়া পর্যায়ে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
পোস্টাল ব্যালেট সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে, যেমন বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবে, নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের হাতে শত শত ব্যালেট পৌঁছানোর ঘটনা ভাইরাল হয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংযুক্ত ভোট সম্পূর্ণ অবৈধ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষতি করে।
বিএনপি প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল। মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এই নির্বাচনই প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে।
পোস্টাল ব্যালেটের নকশা নিয়ে তিনি বিশেষভাবে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যালেটের ধানের শীষের চিহ্ন নিচের দিকে স্থাপন করা হয়েছে, যা সহজে দেখা যায় না; ভাঁজ করলে চিহ্ন অদৃশ্য হয়ে যায় অথবা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রতীকগুলো সহজে দৃশ্যমান স্থানে রাখা হয়েছে, যা সমতা নীতি লঙ্ঘন করে।
মাহ্দী আমিনের মতে, এমন নকশা ভোটারদের জন্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্দিষ্ট দলের পক্ষে ভোটের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পোস্টাল ব্যালেটের এই ত্রুটি দ্রুত সংশোধন না করা হলে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।
বিএনপি উপদেষ্টা এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা না হলে জনগণের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হবে এবং নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এই বিবৃতি নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, কারণ অন্যান্য দলও সমানভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবি করে আসছে। ভবিষ্যতে যদি এই অভিযোগগুলো সমাধান না হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



