ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার সাউদির পররাষ্ট্র মন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জানালেন, ইরান কোনো বিদেশি হুমকির মুখে নিজেকে রক্ষা করবে। এই আলাপচারিতা ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিবাদকারীদের ওপর কঠোর দমনকে নিয়ে সামরিক আক্রমণের সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কতা ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে, ফলে ইরানের নিরাপত্তা নীতির প্রতি মনোযোগ বাড়ছে। আরাঘচি এই আলোচনায় জোর দিয়ে বলেছিলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী নিন্দা করা দরকার।
সৌদি প্রেস এজেন্সি কথোপকথনের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুই মন্ত্রী আঞ্চলিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সংক্রান্ত বিবরণ টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ঘোষণায় প্রকাশ পেয়েছে।
সৌদি পক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, উভয় দেশ আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বয় বাড়াতে ইচ্ছুক। তারা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা, শিয়া-সুন্নি সম্পর্ক এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় উভয় পক্ষই জোর দিয়েছেন, কোনো বহিরাগত শক্তি যদি আঞ্চলিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করে, তা স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাখ্যান করা হবে। আরাঘচি এই প্রসঙ্গে ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়েছেন।
সৌদি প্রতিনিধিরা ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগকে স্বীকার করে, অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সংলাপের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলা অপরিহার্য।
ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য মৌলিক। আরাঘচি উল্লেখ করেছেন, ইরান তার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা প্রত্যাশা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি সম্পর্কে, ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরীণ দমনমূলক নীতির ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছে না। এই অবস্থান ইরান-সৌদি সংলাপের পটভূমিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
দুই দেশের মধ্যে এই ফোনালাপের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর প্রচেষ্টা স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। উভয় পক্ষই পরবর্তী সময়ে সরাসরি সাক্ষাৎ বা উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর উপর প্রভাবের দিক থেকে, এই ধরনের সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে সামান্য হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও সৌদির মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের স্তর বাড়লে, অন্যান্য দেশের হস্তক্ষেপের সুযোগ কমে যাবে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি উল্লেখ করেছে, উভয় মন্ত্রীই আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একমত হয়েছেন। তারা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য শেয়ারিং এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা গড়ে তোলার কথা বলেছেন।
ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিদেশি হুমকির মুখে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দৃঢ় করার একটি কৌশল। আরাঘচি এই বিষয়টি তুলে ধরে, ইরানের নিরাপত্তা নীতি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সৌদি পক্ষের মন্তব্যে দেখা যায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় দেশই সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেবে। তারা উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে আরও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক এবং সমন্বিত নিরাপত্তা উদ্যোগের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ফোনালাপের পর, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরান-সৌদি সম্পর্কের নতুন মোড়ের সম্ভাবনা নিয়ে দৃষ্টি রাখছেন। উভয় দেশের নেতৃত্বের এই পারস্পরিক যোগাযোগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিদেশি হুমকির বিরুদ্ধে রক্ষার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে সৌদির সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। উভয় পক্ষের এই সংলাপ, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে সংলাপের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে।



