অ্যানিস আলমগীর, যিনি বর্তমানে অ্যান্টি-টেররিজম আইনের অধীনে জেলখানায় রয়েছেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত এ সি সি (অ্যান্টি-করাপশন কমিশন) গ্রহণ করেছে। এ সি সি ডিরেক্টর জেনারেল অখতার হোসেন আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, ২০০৪ সালের অ্যান্টি-করাপশন কমিশন আইন ধারা ২৭(১) অনুসারে মামলা দায়ের করা হবে এবং এ সি সি সহকারী পরিচালক অখতারুজ্জামান মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করবেন।
অ্যানিসের সম্পদের ওপর এ সি সি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, তার মোট সম্পদ প্রায় ৪.২৫ কোটি টাকা। তবে তার সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত নিট সম্পদ মাত্র ৫৭.৯৯ লাখ টাকা, ফলে তার ঘোষিত বৈধ আয় ও বাস্তব সম্পদের মধ্যে প্রায় ৩.৬৮ কোটি টাকার বড় পার্থক্য দেখা যায়। এ সি সি এই পার্থক্যকে ‘গুরুতর অসঙ্গতি’ বলে উল্লেখ করে, এবং অভিযোগ করে যে অ্যানিস অবৈধভাবে সম্পদ সঞ্চয় করেছেন এবং তা সম্পদ বিবরণীতে গোপন রেখেছেন।
ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডি বি) দল ১৪ ডিসেম্বর অ্যানিস আলমগীরের বাড়ি থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নিয়ে গিয়ে ডি বি অফিসে স্থানান্তরিত করে। একই দিনে আরিয়ান আহমেদ নামের একজন ব্যক্তি, যিনি কোনো সংগঠনের সদস্য বলে দাবি করেন, অ্যানিস এবং তিনজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করেছে এবং নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনকে উস্কে দিয়েছে।
এই অভিযোগটি উত্তরা পশ্চিম থানা-তে অ্যান্টি-টেররিজম আইনের অধীনে দাখিল করা হয় এবং পরবর্তীতে একটি আইনি মামলায় রূপান্তরিত হয়। পুলিশ জানায়, অভিযোগকারী আরিয়ান আহমেদ অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যানিসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
অ্যানিস আলমগীরের বিরুদ্ধে এ সি সি যে মামলাটি দায়ের করতে যাচ্ছে, তা ধারা ২৭(১) অনুসারে সম্পদ গোপন ও অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের অভিযোগে। এ সি সি সহকারী পরিচালক অখতারুজ্জামান মামলাটি আদালতে দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।
অ্যানিসের আইনজীবীরা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তারা আদালতে তার পক্ষে যথাযথ রক্ষা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। এ সি সি উল্লেখ করেছে যে, সম্পদের পার্থক্য ও গোপন সম্পদের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের পরই মামলার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হবে।
অ্যানিসের জেলখানায় থাকা অবস্থায় অ্যান্টি-টেররিজম আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা চলমান, যা তার বর্তমান অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। আইনগত দিক থেকে, একাধিক মামলার সমন্বয় ও বিচার প্রক্রিয়া একসাথে চলতে পারে, যা আদালতের সময়সূচি ও প্রমাণ সংগ্রহের উপর নির্ভরশীল।
এই মামলায় এ সি সি যে প্রমাণ ও নথি উপস্থাপন করবে, তা আদালতে সম্পদ গোপন ও অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে, অ্যান্টি-টেররিজম আইনের অধীনে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকও বিবেচনা করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, অ্যানিস আলমগীরের বিরুদ্ধে এ সি সি যে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দেশের মিডিয়া ও রাজনৈতিক পরিবেশে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে এ সি সি জোর দিয়ে বলেছে যে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো ব্যক্তির অবস্থান নির্বিশেষে আইন সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।
অ্যানিসের ভবিষ্যৎ আদালত প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফলাফল নির্ধারণ করবে, এবং এ সি সি ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এই মামলায় যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।



