বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম. নাজমুল হাসান খুলনা শহরের লবণচরা এলাকায় অবস্থিত নেভি ইনস্টিটিউট অব হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (NIHM) এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ইন্টার‑সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (ISPR) কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হল হসপিটালিটি খাতে দক্ষ কর্মী তৈরি করা, যা দেশের পর্যটন ও সেবা শিল্পের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক অতিথি, শিক্ষাবিদ, পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে গৌরবময় করে তুলেছে এবং নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
NIHM লবণচরা এলাকার খান জাহান আলী সেতুর (রূপসা সেতু) নিকটবর্তী নৌবাহিনী প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘স্কুল অব লজিস্টিক্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ এর প্রাঙ্গণে গড়ে উঠেছে। শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আধুনিক মানের সুবিধা সমৃদ্ধ এবং প্রশান্ত পরিবেশে গড়ে উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটি নৌ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NSDA) এর নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করবে। প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোতে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের বিকাশকে মূল লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়েছে, যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা কর্মক্ষেত্রে উচ্চ মানের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে NIHM তিনটি NSDA অনুমোদিত কোর্স চালু করেছে: বেকারি ও পেস্ট্রি প্রোডাকশন, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস। এই কোর্সগুলো তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা উভয়ই সমন্বিতভাবে প্রদান করে, যা শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে কোর্সের পরিধি বাড়িয়ে আরও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশিক্ষণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে আধুনিক ক্লাসরুম, সম্পূর্ণ সজ্জিত কিচেন, উন্নত ল্যাবরেটরি এবং প্রশিক্ষক ও শেফদের জন্য উচ্চমানের সরঞ্জাম। এছাড়া, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের অবকাঠামো বিদ্যমান।
প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নারী ও পুরুষ উভয় প্রশিক্ষণার্থীর জন্য ১০০% আবাসন সহ একটি স্বতন্ত্র ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসটি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা থাকবে।
NIHM এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হল দেশের হসপিটালিটি খাতে আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার গড়ে তোলা এবং এই সেক্টরের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা। প্রশিক্ষণ শেষে স্নাতকরা হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে এবং পর্যটন সংস্থায় কর্মসংস্থান পেতে সক্ষম হবে, যা দেশের কর্মসংস্থান হার উন্নত করতে সহায়তা করবে।
আপনার যদি হসপিটালিটি ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা থাকে, তবে NIHM এর প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো একটি বাস্তবিক বিকল্প হতে পারে। আপনি কি ইতিমধ্যে এমন কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, নাকি আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছেন?



