আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের চারজন প্রতিনিধির দল ১৫ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটায় নির্বাচন কমিশনের আগারগাঁও অফিসে উপস্থিত হয়। দলটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইসিতে গিয়েছিল, যা দেশের রাজনৈতিক সূচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিনিধিদলটি আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে পৌঁছে, কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারের পর আলোচনার সূচনা করে। উপস্থিতির সময়সূচি ও স্থান নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছিল, এবং দলটি নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে অফিসে পৌঁছায়।
দলটির নেতৃত্বে ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আজাদ, যিনি দলের কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সঙ্গে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বে পারদর্শী।
এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে সমন্বয় সাধন করা। দলটি ভোটার তালিকা, নির্বাচনী সীমানা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা যায়। নির্বাচনী নিয়মাবলী ও সময়সূচি সংক্রান্ত যে কোনো অস্পষ্টতা দূর করার জন্য উভয় পক্ষই তথ্য বিনিময় করে।
একই সন্ধ্যায়, রাত আটটায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে (দ্বিতীয় তলা) একটি বৃহৎ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীসহ মোট এগারোটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ হিসেবে চিহ্নিত।
সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আসন ভাগাভাগি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সমঝোতা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেয়। এই সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতিটি দল তাদের প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করবে, যাতে একত্রে ভোটারদের সমর্থন অর্জন করা যায়। সমঝোতার বিশদ বিবরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে এটি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ধরনের সমন্বয়মূলক উদ্যোগের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিপক্ষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে, যা শাসক দলের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, নির্বাচনী কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে দলগুলো নির্বাচনের ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা পাবে। ভবিষ্যতে এই সমঝোতা কীভাবে ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।
পরবর্তী সময়ে, নির্বাচনী কমিশন ও অংশগ্রহণকারী দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে এবং নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি নেবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং এই সমঝোতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



