ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) থেকে চারজন মহাকাশচারী আজ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রতটে অবতরণ করে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। তারা এক মাসের আগে একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে মিশন শেষ করে জরুরি ভাবে ইভ্যাকুয়েটেড হয়েছিলেন।
সামুদ্রিক উদ্ধারকাজের পরে স্পেস শাটলটি নিরাপদে পানিতে নেমে আসে এবং ক্রু সদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা গার্নিতে স্থানান্তর করা হয়। প্রথমে ক্যাপ্টেন মাইক ফিনকে, যিনি নাসার অভিজ্ঞ মহাকাশচারী, সামান্য দুলে দাঁড়িয়ে হাসি দিয়ে গার্নিতে শুয়ে পড়েন। তার পর নাসার জেনা কার্ডম্যান, জাপানের কিমিয়া ইউই এবং রাশিয়ার কোসমোনট ওলেগ প্লাটোনভ ক্রমানুসারে নৌকা থেকে নামেন এবং ক্যামেরার দিকে হাত নেড়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
কার্ডম্যান অবতরণের পর “বাড়ি ফিরে এসে খুবই আনন্দিত” বলে তার অনুভূতি প্রকাশ করেন, যা দলের মনোবলকে আরও উঁচু করে তুলেছে। এই অবতরণটি ১৯৯৮ সালে আইএসএস পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার পর থেকে প্রথম স্বাস্থ্যজনিত ইভ্যাকুয়েশন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অবতরণ শেষে ক্রু-১১ দলকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা পরীক্ষা করা হবে এবং পরবর্তীতে স্থলভাগে পুনরায় পরিবহন করা হবে। নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের মতে, অসুস্থ মহাকাশচারী বর্তমানে স্থিতিশীল এবং মানসিকভাবে স্বস্তিতে আছেন। রোগীর পরিচয় বা রোগের প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা নাসার পূর্বের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নীতি অনুসরণ করে।
আইএসএসের দায়িত্ব এখন রাশিয়ার কোসমোনট সার্গেই কুদ-সভারচকভ এবং তার সঙ্গে থাকা দুইজন ক্রু সদস্যের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি মিশনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
ক্রু-১১ দলটি ১ আগস্ট আইএসএসে পৌঁছায় এবং প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের বেশি সময়ের মিশন পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তবে শেষ সপ্তাহে ফিনকে ও কার্ডম্যানের নির্ধারিত স্পেসওয়াকটি হঠাৎ বাতিল করা হয় এবং কয়েক ঘণ্টা পরে নাসা জানায় যে একটি ক্রু সদস্যের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে।
ফিনকে হস্তান্তরের সময় “মিশনটি মধুর-তেতো অনুভূতি নিয়ে শেষ হয়েছে” বলে মন্তব্য করেন এবং কুদ-সভারচকভকে স্টেশনের চাবি প্রদান করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানান যে স্টেশনে থাকা সকল ক্রু সদস্যই নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং যথাযথ যত্নে রয়েছে।
আইএসএস প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর চারপাশে গতি করে, দিনে প্রায় ষোলোবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করে এবং প্রতি ঘন্টায় ২৮,০০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করে। পাঁচটি প্রধান মহাকাশ সংস্থা এই স্টেশন পরিচালনা করে এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালায়, যার মধ্যে মহাকাশের পরিবেশ, মানবদেহের উপর প্রভাব এবং পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত।
এই জরুরি অবতরণটি মহাকাশ মিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করেছে। যদিও রোগীর বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে, তবে ক্রু সদস্যদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট।
পাঠকগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি মনোযোগ বজায় রাখুন, এবং ভবিষ্যতে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান।



