19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগণঅভ্যুত্থানকারীদের জন্য দায়মুক্তি আইন কেবিনেট অনুমোদন, গেজেট নোটিফিকেশন অপেক্ষায়

গণঅভ্যুত্থানকারীদের জন্য দায়মুক্তি আইন কেবিনেট অনুমোদন, গেজেট নোটিফিকেশন অপেক্ষায়

গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নির্ধারণ আইন কেবিনেটের অনুমোদন পেয়েছে, এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইনটি অনুমোদিত হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে ড. আসিফ জানান, আইনটি কেবিনেটের অনুমোদনের পর আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে। গেজেট প্রকাশের পরই আইনটি কার্যকর হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

সরকারের এই পদক্ষেপের পেছনে জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানকারীদের জন্য করা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন রয়েছে। ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে রূপ দিতে এই আইনকে মূলধারার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

আইনটি বিশেষভাবে জুলাই ও আগস্ট মাসে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গৃহীত কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করে। ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত সকল রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কাজের জন্য অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। এই সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোন কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রতিরোধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

আইন কার্যকর হলে, রাজনৈতিক প্রতিরোধের কারণে দায়ের করা সব ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং একই সময়ে নতুন কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না। ফলে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য আদালতে আর কোনো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে না।

তবে ড. আসিফ স্পষ্ট করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে না। লোভ, প্রতিশোধ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে করা অপরাধকে রাজনৈতিক প্রতিরোধের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না এবং সেসব ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তির ফৌজদারি দায় বজায় থাকবে।

এই পার্থক্য নির্ধারণের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের ওপর অর্পিত হয়েছে। কমিশনকে বলা হয়েছে, কোনো ভিকটিমের পরিবার যদি মনে করে হত্যাকাণ্ডটি ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হয়েছে, তবে তারা মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করতে পারবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিশন তদন্ত করে তার ফলাফল প্রতিবেদন করবে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।

আইনের এই ধারা মানবাধিকার কমিশনের তদারকি নিশ্চিত করে, যাতে রাজনৈতিক প্রতিরোধের ছদ্মবেশে ব্যক্তিগত অপরাধকে দায়মুক্ত করা না যায়। একই সঙ্গে এটি ভিকটিমদের জন্য একটি আইনি রূপরেখা তৈরি করে, যাতে তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানাতে পারে।

ভবিষ্যতে আইনটি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর, সরকার সংশ্লিষ্ট সকল ফৌজদারি রেকর্ড থেকে রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক মামলাগুলি মুছে ফেলবে এবং নতুন কোনো মামলা দায়েরের অনুমতি দেবে না। এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা ও সমন্বয় বজায় রাখতে সরকার আশা প্রকাশ করেছে, তবে মানবাধিকার সংস্থা ও কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী আইনটির সীমা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।

সারসংক্ষেপে, জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদানকারী আইনটি কেবিনেটের অনুমোদন পেয়েছে এবং গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে শীঘ্রই কার্যকর হবে। মানবাধিকার কমিশনের তদারকি ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়িত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা আইনকে সমন্বিত ও ন্যায়সঙ্গত করার লক্ষ্য রাখে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments