মিশেল প্লাটিনি, প্রাক্তন ইউইএফএ সভাপতি, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে তিনি এমন একটি গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, যারা তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে চেয়েছিল। তিনি ফিফা ও ইউইএফএর বর্তমান শাসনব্যবস্থা, বিশেষ করে আরিয়েল ইনফ্যান্টিনোর নেতৃত্বে, কঠোর সমালোচনা করেছেন।
প্লাটিনি উল্লেখ করেন, ফুটবলে লক্ষ লক্ষ রোমান্টিক ভক্ত আছে, যারা তার মত ধারণা ভাগ করে নেয়, তবে শেষ পর্যন্ত খেলা বড় ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, এই ব্যবসায়িক পরিবেশে তিনি একসময় শীর্ষে ছিলেন, কিন্তু একই সঙ্গে তা তাকে নিচে নামিয়ে এনেছে।
১৯৯৯ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ইউইএফএর সভাপতি হিসেবে প্লাটিনি ইউরোপীয় ক্লাব ও জাতীয় দলগুলোর আর্থিক সংস্কার, চ্যাম্পিয়নস লিগের সম্প্রসারণ এবং নারী ফুটবলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। তার মেয়াদে ইউইএফএর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং টেলিভিশন অধিকার থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
২০১১ সালে ইউইএফএ সভাপতি অবস্থায়, সেপ ব্লাটারের সঙ্গে একটি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে প্লাটিনিকে অবৈধ পেমেন্টের অভিযোগে ফিফা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। সেই সময়ে তাকে ১.৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের পেমেন্টের দাবি করা হয়, যা তিনি ব্লাটারের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে ১৯৯৯-২০০২ সালের কাজের জন্য দাবি করেন। উভয় পক্ষই দাবি করে যে এই চুক্তি মৌখিকভাবে করা হয়েছিল এবং কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য ছিল না।
বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফুটবলের শাসনব্যবস্থার মধ্যে বড় বিতর্কের সৃষ্টি করে, যা শেষ পর্যন্ত ফৌজদারি মামলায় পরিণত হয়। সুইসের আপিল আদালত গত বছর শেষ পর্যন্ত প্লাটিনি ও ব্লাটারকে দোষী না করে মুক্তি দেয়, ফলে তাদের ওপর আর কোনো আইনি বাধা থাকে না।
প্লাটিনি বলেন, গত দশ বছর তার পরিবারকে কষ্ট দিয়েছে, কারণ সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য ও জনমত তাকে প্রভাবিত করেছে। তবু তিনি শেষ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ছিলেন না, কারণ তিনি নিজে জানতেন তিনি দোষী নন। তিনি যোগ করেন, নিজের আত্মবিশ্বাস কখনো ক্ষীণ হয়নি এবং তিনি নিজের ন্যায়বিচারকে নিশ্চিত মনে করেন।
এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে ব্যক্তিগতভাবে শান্তি এনে দিয়েছে, যদিও তার পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ ৭০ বছর বয়সী প্লাটিনি এখনো ফুটবলের শীর্ষ স্তরে অবদান রাখার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন হয়েছে। তিনি ইউইএফএর নয় বছরীয় সভাপতি মেয়াদকে অতীতের এক সময় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে কী ভূমিকা নিতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্লাটিনি তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে ছিলেন, তিনবার ব্যালন ডি’ওর জয়লাভের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইকন হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। তবে শাসনব্যবস্থায় প্রবেশের পর তার সুনাম ধূসর হয়ে যায়, যা তাকে আইকারাসের সঙ্গে তুলনা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
আইকারাসের মতোই, তিনি স্বীকার করেন যে তিনি সূর্যের কাছে উড়ে গিয়ে অতিরিক্ত উচ্চতা অর্জন করার ফলে পতন ঘটিয়েছেন। এই রূপকটি তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও ভুলের স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করে।
প্লাটিনি বর্তমান ফিফা প্রেসিডেন্ট আরিয়েল ইনফ্যান্টিনোর নেতৃত্বে গৃহীত নীতি ও শাসনব্যবস্থার প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, এবং তিনি দাবি করেন যে ফুটবলের স্বচ্ছতা ও ন



