ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি – আজ বিকেল প্রায় তিনটায় জামায়াত‑ই‑ইসলামির কেন্দ্রীয় অফিসে অনুষ্ঠিত সমাবেশে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) না আসলেও, কেলাফত মজলিসের আমীর মমুনুল হক শেষ সিট‑শেয়ারিং ঘোষণায় আইএবি‑কে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল ২৫০টি নির্বাচনী আসনের জন্য প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা, যা আজ রাত ৮টায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে জানানো হবে।
সমাবেশটি দুপুর ১২টায় শুরু হয়, যেখানে জোটের সব সদস্য পার্টির নেতা উপস্থিত ছিলেন, তবে আইএবি প্রতিনিধির অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মমুনুল হক সমাবেশের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান যে আইএবির সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে গেছেন এবং চূড়ান্ত চুক্তির বিবরণ আজ রাতের সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে।
মমুনুল হক বলেন, “আমরা আইএবির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছি এবং আশা করি আজকের ঘোষণায় তারা অন্তর্ভুক্ত হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, একসাথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে এবং সিট‑শেয়ারিংয়ের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে জোটের ঐক্যকে দৃঢ় করা হবে।
প্রেস কনফারেন্সটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউটে রাত ৮টায় নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে ২৫০টি আসনের জন্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে জোটের ১১টি পার্টির সমন্বিত কৌশল স্পষ্ট হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।
প্রার্থীর তালিকায় ৫০টি আসন আইএবির জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মমুনুল হক উল্লেখ করেন, “যদি আইএবি যোগ না দেয়, তবে বাকি আসনের প্রার্থীর নাম পরে জানানো হবে।” এই ব্যবস্থা আইএবির অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলেও জোটের সামগ্রিক কাঠামো বজায় রাখার উদ্দেশ্য প্রকাশ করে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত‑ই‑ইসলামির নায়েব‑এ‑আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু এবং কেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল আহমদ আবদুর কাদের। এদের পাশাপাশি জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের পরে নাহিদ ইসলাম জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই একাদশ পার্টির জোটের প্রতি জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। বিদ্যমান পার্থক্যগুলো সমাধান করা হবে এবং জোটের ঐক্য বজায় থাকবে।” তিনি জোটের সমন্বিত কৌশলকে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।
কেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েব‑এ‑আমীর মোহাম্মদ মুন্তাসির আলি সমাবেশের সমাপ্তিতে সাংবাদিকদের জানান, “আজ রাত ৮টায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউটে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে। আইএবির জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে; যদি তারা যোগ না দেয়, তবে বাকি আসনের নাম পরে জানানো হবে।” তার মন্তব্য জোটের পরিকল্পনা ও সময়সূচি স্পষ্ট করে।
আইএবির অনুপস্থিতি সত্ত্বেও জোটের নেতৃত্বের আশাবাদ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মতো সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত। সিট‑শেয়ারিংয়ের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে জোটের পার্টিগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সমন্বয় পরীক্ষা হবে, যা আসন্ন নির্বাচনে জোটের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করবে।
প্রেস কনফারেন্সের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, যদি আইএবি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে বাকি ২০০টি আসনের জন্য প্রার্থীর নাম নির্ধারিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট পার্টিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জানাবে। এই প্রক্রিয়া জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে দৃঢ় করবে এবং ভোটারদের কাছে স্পষ্ট নির্বাচন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।
সারসংক্ষেপে, আজকের সমাবেশ এবং প্রেস কনফারেন্স জোটের নির্বাচনী কৌশলকে চূড়ান্ত রূপ দিচ্ছে, যেখানে আইএবির অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত, তবে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে তার সম্ভাবনা বজায় রয়েছে। জোটের নেতারা ঐক্য ও সমন্বয় বজায় রেখে, নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের সমন্বয় সাধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।



