ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল থেকে দুজন খেলোয়াড়, আদিল রশিদ ও রেহান আহমেদ, ভিসা প্রক্রিয়ার দেরি কারণে ভারতীয় গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, আর দুজনের ভিসা অনুমোদন এখনও বাকি।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় অপ্রত্যাশিত বিলম্ব দেখা দিয়েছে, যার ফলে রশিদ ও আহমেদের ভারতীয় ভ্রমণ পরিকল্পনা ঝুঁকির মুখে। দেরি মূলত প্রশাসনিক ধাপের কারণে, কোনো নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক আপত্তি জানানো হয়নি।
ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো, যা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নির্ধারিত, রশিদ ও আহমেদের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে। দুজনের অনুপস্থিতি দলের সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে স্পিন ও বোলিং বিভাগের ভারসাম্য বজায় রাখতে।
এ ধরনের ভিসা জটিলতা পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট দলের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত চারজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। আলি খান, শায়ান জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মহসিন ও এহসান আদিলের ভারতীয় ভিসা না পাওয়ায় একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এই পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী রয়ে গেছে। ভারতীয় সরকার ভিসা আবেদন নিয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি, কেবল প্রক্রিয়াগত দেরি উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসিবি যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তা চেয়েছে, যাতে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। দুই দেশের সরকারী সংযোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দ্রুততর হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে আদিল রশিদ দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছেন। তার পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কেড়েছে, তবে বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় ভিসা না পেলে তিনি দল থেকে দূরে থাকবেন।
রেহান আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে ব্যস্ত। তার ব্যাটিং ও অলরাউন্ডার দক্ষতা দলকে শক্তিশালী করে তুলেছে, তবে একইভাবে ভিসা অনুমোদন না পেলে তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে উপস্থিত হতে পারবেন না।
দুজনের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তারা সরাসরি ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইসিবি জানিয়েছে, ভিসা অনুমোদনের পরই তারা মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতিতে অংশ নেবে।
ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ ৮ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিরুদ্ধে নির্ধারিত। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের সূচনা চিহ্নিত করবে, এবং রশিদ ও আহমেদের উপস্থিতি দলের কৌশলগত বিকল্প বাড়াবে।
ভিসা সমস্যার পুনরাবৃত্তি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে ভ্রমণ নীতি ও প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
ইসিবি সবশেষে নিশ্চিত করেছে, ভিসা দেরি সত্ত্বেও দুজনই বিশ্বকাপের আগে দলের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং প্রস্তুতি ম্যাচে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।



