চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ স্পষ্ট করে জানান, দেশের নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার করতে কোনো আইনগত বা সাংবিধানিক বাধার মুখোমুখি নয়।
সম্মেলনটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে আয়োজন করে, যাতে ভোটারদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা যায় এবং গণভোটের জন্য ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা যায়। ইভেন্টে প্রায় এক হাজার দুইশত ইমাম উপস্থিত ছিলেন, যা দেশের ধর্মীয় নেতাদের বৃহৎ সমাবেশের সূচক।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, আর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। সকল অংশগ্রহণকারীকে ভোটের গুরুত্ব ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
রিয়াজের মতে, জুলাই মাসে গৃহীত জাতীয় সনদ সংক্রান্ত কিছু তথ্যভ্রান্তি প্রচারিত হচ্ছে। কিছু গোষ্ঠী দাবি করে যে সনদে ‘বিসমিল্লাহ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা হয়েছে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এ ধরনের কোনো ধারা সনদে অন্তর্ভুক্ত নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের সংবিধানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, এবং এতে কোনো ধর্মীয় শব্দ বাদ দেওয়া বা ঐতিহাসিক ঘটনা অস্বীকার করার কোনো ধারা নেই। সুতরাং, ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেওয়া বা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলা—এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন।
রিয়াজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ভুল ধারণা মূলত তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা বা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থপর উদ্দেশ্য থেকে উদ্ভূত। তিনি আশ্বাস দেন যে, যদি এই ভুল ধারণাগুলি স্পষ্ট করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের অবস্থান সংশোধন করতে সক্ষম হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু মতবিরোধের কথা স্বীকার করলেও, রিয়াজ জোর দিয়ে বলেন যে, জাতীয় সনদে কোনো রাজনৈতিক দলকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলা হয়নি। সুতরাং, কোনো দল বা ব্যক্তির ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারকে আইনি বাধা আরোপ করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেউ যদি যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে মতবিরোধ প্রকাশ করতে চান, তবে তা সম্পূর্ণ স্বাগত, তবে প্রচার কার্যক্রমে বাধা আরোপ করা সংবিধানিকভাবে অবৈধ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার করা কোনো অপরাধ নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
এই স্পষ্টীকরণ দেশের আসন্ন গণভোটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। আইনগত বাধা না থাকায়, সরকার ও সমর্থক দলগুলো ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ভোটের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
অপরদিকে, কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক স্বার্থের অংশ হিসেবে দেখছে এবং তারা তথ্যের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ দাবি করতে পারে। তবে রিয়াজের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনি দিক থেকে কোনো বাধা না থাকায়, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ সীমিত থাকবে।
সম্মেলনের সমাপ্তিতে রিয়াজ পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারকে বাধা দেয়া কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং সকল নাগরিককে তাদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা উচিত। ভবিষ্যতে এই দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আরও কার্যকরী ক্যাম্পেইন চালাবে।



