ঢাকার একটি হোটেলে কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এর প্রেস কনফারেন্সে বেসিক বোলার মুস্তাফিজুর রহমান এবং কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের মধ্যে হালকা মুহূর্ত দেখা যায়। দাবি সংক্রান্ত বক্তব্যের সময় মিঠুন মুস্তাফিজের দিকে তাকিয়ে হালকা স্বরে বললেন, “ভুল বললে মুস্তাফিজ ঠিক করিস”। তৎক্ষণাৎ মুস্তাফিজ “ঠিক আছে” বলে উত্তর দেন, ফলে কনফারেন্স রুমে হাসির ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।
এই হাস্যকর বিনিময়ের পরেও ক্রিকেটারদের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। কোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তাদের দাবিগুলি পূরণ না হলে তারা কোনো ম্যাচে অংশ নেবে না। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা খেলায় বিরোধিতা করছে না, তবে অপমান সহ্য করা সম্ভব নয়।
কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন উল্লেখ করেন, “আমরা খেলায় বিরোধিতা করছি না, তবে অপমান সহ্য করা যায় না” এবং বলেন যে, এই অবস্থান নিতে তাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এর পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের ধারাবাহিক মন্তব্যগুলো পুরো ক্রিকেট অঙ্গনকে অপমানের শিকার করেছে।
মিঠুনের মতে, নাজমুল ইসলামের মন্তব্যগুলো শুধুমাত্র খেলোয়াড় নয়, ক্রিকেটের প্রতিটি সেক্টরকে ছোট করে দেখিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আইসিসি ট্রফি জয়ের সময় থেকে শুরু করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মূল্য পর্যন্ত সবকিছুই অবহেলিত হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্যগুলো খেলোয়াড়দের মর্যাদা ও ক্রীড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহাগও কোয়াবের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, “সবারই খেলায় প্রস্তুতি আছে, তবে আমাদের দাবিগুলি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত মাঠে নামা সম্ভব নয়”। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। কোয়াবের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, এই মুহূর্তে কোনো সরাসরি মিটিং হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে।
ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ আর্থিক দিক থেকে স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের বেতন সরকারী তহবিল থেকে নয়, স্পন্সর ও আইসিসি থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে আসে। মিরাজ জোর দিয়ে বলেন যে, মাঠে না খেললে স্পন্সরদের আগ্রহ কমে যাবে এবং আইসিসি থেকে কোনো আয় হবে না।
মিরাজ আরও উল্লেখ করেন, ক্রিকেটারদের আয় দেশের বড় রাজস্বের অংশে রূপান্তরিত হয়, কারণ তারা নিয়মিত কর প্রদান করে। তিনি বলেন, “আমাদের টাকায় তোমরা চলছো” এমন ধারণা বাস্তব নয়; ক্রিকেটারদের আয়ই বিসিবির আর্থিক শক্তির পেছনে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত, তিনি নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে না দেখে, পুরো ক্রীড়াঙ্গনের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
কোয়াবের এই কঠোর অবস্থান এবং আর্থিক ব্যাখ্যা দু’টি মূল বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত: দাবিগুলির পূর্ণতা এবং ক্রিকেটের স্বচ্ছ আর্থিক কাঠামো। এই পরিস্থিতিতে, বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের মধ্যে সমন্বয় না হলে আসন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ম্যাচে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।



