ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বর থেকে সায়েন্স ল্যাব মোড় পর্যন্ত রোড অবরোধের ফলে এক মা লামিয়া আক্তার ও তার তিন বছর বয়সী সন্তানকে হাতে টেনে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। অবরোধ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ঃ৪০ টায় শুরু হয়, যখন সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়ে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে।
লামিয়া আক্তার এক হাতে ট্রলি ব্যাগ টেনে, অন্য হাতে ছোট শিশুকে ধরে, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর থেকে সায়েন্স ল্যাব মোড় পর্যন্ত চলছেন। তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে লালবাগে বাবার বাড়িতে যাওয়ার পথে বাস থেমে যাওয়ায় এই পথেই হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন।
বসের গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় তিনি রিকশা খোঁজার চেষ্টা করেন, তবে কোনো রিকশা চালকই রোড অবরোধ অতিক্রম করতে ইচ্ছুক হননি। তাই তিনি এবং তার সন্তানকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর কোনো বিকল্প না থাকায় এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন।
অবরোধের মূল কারণ হল ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সমবেত দাবি। তারা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত অধ্যাদেশের দ্রুত জারি হওয়ার দাবি জানিয়ে সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে বাধা দেয়।
প্রদর্শকরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’ ইত্যাদি স্লোগান গাইতে থাকে। এই স্লোগানগুলো তাদের শিক্ষাগত অধিকার ও সরকারি নীতি পরিবর্তনের তাগিদকে প্রকাশ করে।
অবরোধের ফলে মিরপুর সড়ক ও আশপাশের প্রধান রাস্তাগুলোতে গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বিশাল যানজট গড়ে ওঠে। বহু মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে হেঁটে চলতে বাধ্য হয়, কেউ হাসপাতালের দিকে যায়, কেউ পরীক্ষার জন্য সময়মতো পৌঁছাতে পারে না।
একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল মোহাম্মদপুর থেকে স্কুটার চালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আফরিন রহমান ও তার মেয়ে সারা রহমানের বাধা। সারা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিতে দু’টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন, তবে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে পৌঁছেই ছাত্রদের দ্বারা থামিয়ে দেওয়া হয়।
প্রদর্শকরা তাদের প্রবেশপত্র দেখালেও স্কুটার চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি না দিয়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট অপেক্ষা করাতে বাধ্য করে। শেষমেশ সারা স্কুটার থেকে নামিয়ে কাঁটাবন মোড়ে হেঁটে গিয়ে রিকশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান, আর আফরিন সেখানে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
অবরোধের ফলে হাজারো গৃহস্থালী ও কর্মচারী গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় দৈনন্দিন জীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। রোগী, পরীক্ষার্থী, ব্যক্তিগত কাজের জন্য বের হওয়া মানুষ সবই এই বাধার শিকার।
শিক্ষার্থীরা দাবি করে যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠা ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের জারি না হলে শিক্ষার গুণগত মান ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত হবে না। তারা সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।
অধিকাংশ সরকারি কর্তৃপক্ষ অবরোধের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অক্ষম বলে সমালোচিত হয়েছে। শহরের ট্রাফিক বিভাগ ও পুলিশ অবরোধ ভাঙতে পারলেও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি যথাযথ প্রতিক্রিয়া না দেখায়, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি সরকার দ্রুত অধ্যাদেশ জারি না করে তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অনুরূপ আন্দোলন দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি দেশের শিক্ষানীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



