সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার জানা নায়গান নামের তামিল চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন ও মুক্তি সংক্রান্ত বিরোধে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত জানায়। এই বিষয়টি বর্তমানে মদরাস হাই কোর্টের একটি বিভাগীয় বেঞ্চের অধীনে রয়েছে এবং শীর্ষ আদালত উচ্চ আদালতকে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত রায় দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
বিরোধের মূল কারণ হল মদরাস হাই কোর্টের পূর্ববর্তী আদেশে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সের্টিফিকেশন (CBFC)কে চলচ্চিত্রকে ইউ/এ সার্টিফিকেট প্রদান করার নির্দেশকে স্থগিত করা। এই স্থগিতাদেশের ফলে চলচ্চিত্রের নির্ধারিত মুক্তি, যা মাসের শুরুর দিকে পরিকল্পিত ছিল, অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে যায়।
চলচ্চিত্রের উৎপাদনকারী KVN প্রোডাকশনস এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। তারা যুক্তি দেয় যে সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার বিলম্বের ফলে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রচারমূলক কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সূচি বিপন্ন হয়েছে।
দুইজন বিচারক, জাস্টিস দীপঙ্কর দত্ত ও এ.জি. মাসিহের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই পিটিশন শোনে। উৎপাদনকারীর পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুকুল রোহতগি জোর দিয়ে বলেন যে সার্টিফিকেশন দেরি চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় “গুরুতর আঘাত” সৃষ্টি করছে।
সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করে যে মদরাস হাই কোর্টের বিভাগীয় বেঞ্চ ইতিমধ্যে বিষয়টি গ্রহণ করেছে এবং ২০ জানুয়ারি তারিখে পুনরায় শুনানির ব্যবস্থা করেছে। তাই, এই পর্যায়ে উচ্চ আদালতকে হাই কোর্টের প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে নিজস্ব রায় দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
ফলস্বরূপ, সুপ্রিম কোর্ট সার্টিফিকেশন বিরোধের মূল বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করে না এবং সকল যুক্তি ও প্রমাণ হাই কোর্টে উপস্থাপন করার নির্দেশ দেয়। শেষ রায় মদরাস হাই কোর্টের হাতে থাকবে।
জানা নায়গান চলচ্চিত্রের দায়িত্বে আছেন পরিচালক এইচ. ভিনথ এবং এতে রয়েছে পোজা হেগডে, প্রকাশ রাজ ও গৌতম বসুন্দেভ মেনন। ভিকির শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে এই প্রকল্পটি ব্যাপক জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি তার রাজনৈতিক জীবনে পূর্ণকালীন প্রবেশের পূর্বে শেষ পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য হয়।
প্রাথমিকভাবে, CBFC-এর পরীক্ষণ কমিটি চলচ্চিত্রের কিছু কাটার পরামর্শ মেনে নেওয়ার পর ইউ/এ সার্টিফিকেশন সুপারিশ করে। তবে, পরবর্তীতে চেয়ারপার্সন বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য রেফার করেন, যা বর্তমান আইনি জটিলতায় পরিণত হয়েছে।
মদরাস হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ একক বিচারকের আদেশকে বাতিল করে, যা CBFCকে ইউ/এ সার্টিফিকেট প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষ ও চলচ্চিত্র নির্মাতার মধ্যে একটি অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে অতিরিক্ত বিলম্ব চলচ্চিত্রের বিপণন ক্যালেন্ডারকে ব্যাহত করতে পারে, যা ভিকির আসন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত প্রচার ইভেন্টের সঙ্গে সমন্বিত।
২০ জানুয়ারির নির্ধারিত সময়সীমা মদরাস হাই কোর্টকে কাটার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন, বোর্ডের নির্দেশিকা অনুসারে সম্মতি যাচাই এবং চলচ্চিত্রটি ইউ/এ রেটিংয়ের মানদণ্ড পূরণ করে কিনা তা নির্ধারণের সংকীর্ণ সময় দেয়।
বিতরণকারী, থিয়েটার মালিক এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডার এখন উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছেন, কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্রের মুক্তি সময়সূচি এবং বক্স অফিসে সম্ভাব্য সাফল্যকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
ইউ/এ রেটিং তামিল চলচ্চিত্রের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে; এটি ১২ বছর বয়সের উপরে শিশুদের পিতামাতার তত্ত্বাবধানে দেখার অনুমতি দেয়, ফলে বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীর আকর্ষণ বাড়ে। এই রেটিং না পেলে চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
সামাজিক মাধ্যমে ভিকির ভক্তরা এই বিলম্বকে নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে এবং চলচ্চিত্রের মুক্তি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। অনেকেই আশা করছেন যে হাই কোর্টের রায় দ্রুত আসবে, যাতে চলচ্চিত্রটি নির্ধারিত সময়ে বড় স্ক্রিনে আসতে পারে।



