সিইসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, দলটি কয়েকটি আইনি প্রশ্নের ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ার ওপর পুনরায় উদ্বেগ জানিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী কাজের সুষ্ঠু সম্পাদন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব দিতে হবে। এছাড়া আচরণবিধি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিএনপি দল পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহারে অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে বিদেশে পাঠানো ব্যালট পেপার নিয়ে অভিযোগ উঠে যে, একাধিক বাসায় দুইশোটির বেশি ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। দলটি উল্লেখ করে, পোস্টাল ব্যালট প্রথমবার চালু হওয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে এই সুযোগে কোনো দলকে দুর্বল না করা জরুরি। বাস্তবিক ভুলগুলোতে বিএনপি নিজেকে ভিকটিম হিসেবে দেখছে এবং নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায়।
পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার দেশীয় স্তরে সর্বাধিক হবে বলে দলটি অনুমান করে। তাই সব দলের প্রতীক দিয়ে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের প্রতীক দিয়ে ব্যালট ছাপানোর প্রস্তাব দেয়। অতিরিক্তভাবে, ভোটার স্লিপে প্রার্থী ও দলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করা হয়েছে, যাতে ভোটারকে সঠিক তথ্য প্রদান করা যায়।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর বাতিলের কারণেও দলটি মন্তব্য করে। তিনি স্পষ্ট করেন, সফরটি আচরণবিধির লঙ্ঘনের জন্য নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে স্থগিত হয়েছে। অন্য দলগুলোর এই বিষয়ে তীব্র সমালোচনা, দলটি মতে, আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানানো হয়, বিষয়টি তৎক্ষণাৎ বাহরাইন পোস্টকে জানানো হয়েছে। পোস্ট অফিসের তদন্তের পর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা তা জানাবে। একই সঙ্গে, কমিশনের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবিলীকৃত ১২৯টি ব্যালট খাম বাহরাইনস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পোস্টে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ফেরত পাওয়া এই ব্যালটগুলোকে আলাদা করে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যালট খোলা হয়নি এবং ভোটার তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়নি। ফলে ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।
বিএনপি এই বিষয়গুলোকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দলটি আশা করে, নির্বাচন কমিশন দ্রুত এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়বদ্ধ করবে। পোস্টাল ব্যালটের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে, এ বিষয়ে দলটি সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের ত্বরিত পদক্ষেপ এবং বাহরাইন পোস্টের তদন্তের ফলাফল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহারের পদ্ধতি ও নিয়মাবলী পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে সহায়তা করবে।



