নাসা ও স্পেসএক্সের সমন্বয়ে পরিচালিত ক্রু‑১১ মিশন, মেডিক্যাল উদ্বেগের কারণে পরিকল্পনার চেয়ে আগে শেষ হয়ে সান ডিয়েগোর উপকূলে অবতরণ করেছে। এই অবতরণটি জানুয়ারি ১৫ তারিখে রাত ৩:৪১ টায় ঘটেছে এবং এটি নাসার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মেডিক্যাল কারণে মিশন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
মিশনের প্রধান লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ গবেষণা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা। স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে যাত্রা করা ক্রু‑১১, আগস্ট ১ তারিখে কক্ষপথে প্রবেশ করে এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টেশনে অবস্থান করার পরিকল্পনা ছিল। তবে মেডিক্যাল সমস্যার উদ্ভবের ফলে এই সময়সূচি বদলাতে হয়।
ক্রু‑১১-এ নাসার দুইজন মহাকাশচারী মাইক ফিনকে ও জেনা কার্ডম্যান, জাপানের জ্যাক্সা সংস্থার কিমিয়া ইউই এবং রাশিয়ার ওলেগ প্লাটোনভ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এরা সকলেই প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির পর একসাথে স্টেশনে পৌঁছায় এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় অংশ নেয়।
মিশনের শুরুর সময়সূচি অনুযায়ী, দলটি প্রায় ছয় মাসের জন্য আইএসএসে অবস্থান করবে এবং ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি পর্যন্ত ফিরে আসবে না। তবে স্টেশনে থাকা সময়ের মাঝখানে একটি অজানা স্বাস্থ্য সমস্যার সূচনা হয়, যা দ্রুতই নাসার মেডিক্যাল টিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
নাসা প্রকাশ করেছে যে, সমস্যাটি কোনো জরুরি চিকিৎসা অপারেশন (ইভ্যাকুয়েশন) প্রয়োজনীয় নয়, তবে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং তা পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে। রোগীর পরিচয় ও নির্দিষ্ট রোগের ধরণ গোপন রাখা হয়েছে, তবে নাসা জোর দিয়ে বলেছে যে অবস্থা গুরুতর নয়।
মেডিক্যাল সমস্যার মূল কারণ হল আইএসএসে যথাযথ নির্ণয় সরঞ্জাম না থাকা। স্টেশনের সীমিত চিকিৎসা সুবিধার কারণে নাসা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মিশনটি আগাম শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তটি পুরো দলকে নিরাপদে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেয়।
ড্রাগন ক্যাপসুলটি সান ডিয়েগোর উপকূলে নির্ধারিত সময়ে সফলভাবে পানিতে অবতরণ করে। অবতরণ স্থানটি সামুদ্রিক অঞ্চলে নির্ধারিত, যেখানে স্পেসএক্সের পুনরুদ্ধার দল দ্রুতই ক্যাপসুলটি সংগ্রহ করে। অবতরণ সময়ের সঠিক রেকর্ড অনুযায়ী, এটি রাতের ৩:৪১ টায় ঘটেছে।
অবতরণ পরপরই স্পেসএক্সের একটি মেডিক্যাল ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। যদিও এটি রুটিন চেক-ইন, তবে ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ক্রু সদস্যদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পুনরায় নিশ্চিত করা হয়। কোনো অতিরিক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়নি।
ক্রু‑১১ মোট ১৬৭ দিন মহাকাশে কাটিয়ে, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ থেকে ফিরে এসেছে। এই সময়ের মধ্যে তারা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ডেটা সংগ্রহ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক কাজ সম্পন্ন করেছে, যা ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করবে।
ক্রু‑১১ ফিরে আসার পর আইএসএসে মাত্র তিনজন সদস্য অবশিষ্ট থাকে। দুইজন রাশিয়ান কসমোনট এবং নাসার ক্রিস উইলিয়ামস এখন স্টেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্টেশনের কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি এবং মিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
নাসা বর্তমানে ক্রু‑১২ মিশনের সূচি পুনর্বিবেচনা করছে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রু‑১২ ফেব্রুয়ারি ১৫ তারিখে উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নাসা আগাম উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
মিশনের অপ্রত্যাশিত শেষ হওয়া যদিও কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, তবে নাসা ও স্পেসএক্সের দ্রুত পদক্ষেপ এবং নিরাপদ অবতরণ প্রক্রিয়া দেখায় যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কর্মসূচি এখনও দৃঢ় ভিত্তিতে চলছে। ভবিষ্যতে এমন অনুরূপ পরিস্থিতি এড়াতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, তা নিয়ে আপনার কী মতামত?



