প্রাক্তন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পালাক আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এ সাক্ষ্য দিয়ে জানান, জুলাই ২০২৪-এ ছাত্রদের প্রতিবাদে তিনি তাদের দাবিকে সমর্থন করেছেন এবং তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগের ইচ্ছা জানিয়েছিলেন।
এই সাক্ষ্যটি সজীব ওয়াজেদ জয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শীর্ষের আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা, এবং পালাকের বিরুদ্ধে গৃহীত মামলায় রক্ষা দল কর্তৃক দাখিল করা মুক্তির পিটিশনের শুনানির অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়। মামলাটি মূলত জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত ব্যাপক ছাত্র উত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের উস্কানির অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে।
পালাক আদালতে উল্লেখ করেন, ২ আগস্টের দিনই তিনি ছাত্রদের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ঐ সময়ের পরিস্থিতি এবং ছাত্রদের তীব্র দাবি তাকে এই সিদ্ধান্তে বাধ্য করে।
এরপর তিনি ক্যাবিনেট সভায় ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেন এবং একই সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি তার পদত্যাগের ইচ্ছা ভাগ করে নেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপটি ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের রক্ষা দল থেকে মনজুর আলমের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, তার ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং কোনো অপরাধের প্রমাণ না থাকায় তাকে বিচারের আওতায় আনা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে জয় কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।
শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল ২১ জানুয়ারি একটি আদেশ জারি করার জন্য তারিখ নির্ধারণ করে, যাতে মামলায় অভিযোগ ফ্রেম করা হবে কি না তা নির্ধারিত হবে। এই তারিখে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবে, অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হবে কিনা।
আদেশটি তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল দ্বারা জারি করা হবে, যার প্রধান বিচারপতি হলেন মোঃ গোলাম মরতুজা মোজুমদার। তিনি মামলার প্রক্রিয়াগত দিকগুলো তদারকি করবেন এবং পরবর্তী ধাপের নির্দেশনা প্রদান করবেন।
জুলাই ২০২৪-এ ছাত্রদের বৃহৎ প্রতিবাদে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারকে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ফেলে। সেই সময়ে বহু বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে সরকারী নীতি ও শিক্ষার মানের ওপর প্রশ্ন তুলেছিল। ইন্টারনেট বন্ধের ফলে তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো থেকে সমালোচনা আসে।
এই মামলায় জয় এবং পালাক দুজনেই ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে জনমত গঠন ও প্রতিবাদকে দমন করার অভিযোগে অভিযুক্ত। উভয়ই দাবি করেন, ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল, কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নয়।
পালাকের এই স্বীকারোক্তি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও ruling party-র অভ্যন্তরীণ গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে তার পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক সরকারী নীতি পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যরা এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
২১ জানুয়ারি আদেশের পর যদি অভিযোগ ফ্রেম করা হয়, তবে মামলাটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে এবং উভয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে আরও বিস্তারিত শুনানি হবে। এই প্রক্রিয়া দেশের আইনি ও রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে মানবাধিকার, ইন্টারনেট স্বাধীনতা এবং সরকার-জনসংযোগের ক্ষেত্রে।
সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই শুনানি এবং পালাকের স্বীকারোক্তি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনি দায়িত্বের পুনর্মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



