রংপুরের মিঠাপুকুরে মির্জাপুর ইউনিয়নের বৈরাতি হাট এলাকায় চ্যালেঞ্জ কোচিং সেন্টারে ১০ম শ্রেণির এক শিক্ষিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রাকিব মিয়া নামের শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, রাকিব প্রাইভেট টিউশন নামে শিক্ষার্থীদের একাধিক দিন ছুটি দিয়ে, পরে ‘ভালো করে পড়ানোর’ নামে শিক্ষিকাকে জোর করে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর রাত পর্যন্ত কোচিং সেন্টার ঘেরাও করে প্রতিবাদ করেন এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশকে জানিয়ে শিক্ষককে আটক করেন।
রাকিব মিয়া মিঠাপুকুরে রুম ভাড়া করে চ্যালেঞ্জ কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন। তিনি মির্জাপুর ইউনিয়নের বৈরাতি হাট এলাকায় রাকিব মিয়া নামে পরিচিত এবং ইমাদপুর ইউনিয়নের বানিয়ারজান গ্রাম থেকে আসা রুশু মিয়ার পুত্র। রাশির বাবা একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, যা তাকে শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা পরিচিতি দিয়েছে বলে জানা যায়।
শিকারের মতে, রাকিব প্রাইভেট টিউশন নামে তাকে কয়েকদিনের জন্য অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে, পরে ‘ভালো করে পড়ানোর’ নামে জোর করে যৌন নির্যাতন করেন। শিকার যখন প্রতিবাদ করেন, রাকিব তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। শেষ পর্যন্ত শিকারের বাবা-মা ও আত্মীয়দের জানার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। একই কোচিং সেন্টারে অন্য শিক্ষার্থীরাও রাকিবের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা রাকিবকে আটক করে শাস্তি চেয়ে কোচিং সেন্টার ঘেরাও করেন। রাত্রি গভীর পর্যন্ত প্রতিবাদ চলতে থাকে। শেষমেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, রাকিবকে গ্রেফতার করে গৃহস্থালির হেফাজতে নেন। শিকারের পরিবারকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে জরুরি চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বিক্ষুব্ধ জনগণ রাকিবের বিরুদ্ধে আপসের জন্য ঘরোয়া বৈঠকও আয়োজন করে। বৈঠকে রাকিব উপস্থিত থেকে শিক্ষিকার সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে, তা ‘টাইম পাস’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে উপস্থিতদের দাবি ছিল রাকিবের ওপর কঠোর শাস্তি আরোপের।
পুলিশের মতে, রাকিবের গ্রেফতার পর তদন্ত চলছে এবং শিকারের বিবরণ, অন্যান্য শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এবং রাকিবের পূর্ববর্তী রেকর্ড যাচাই করা হবে। রংপুরের জেলা আইনজীবী অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে মামলাটি দ্রুত আদালতে দাখিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের অপরাধের শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। রংপুরের জেলা পুলিশ প্রধান উল্লেখ করেছেন, “যেকোনো ধরনের যৌন নির্যাতন অপরাধের শাস্তি কঠোর হবে এবং শিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।”
শিকারের পরিবার এখন মানসিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগে তাকে পরামর্শ ও থেরাপি প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, শিকারের পরিবার আইনি সহায়তা গ্রহণের জন্য স্থানীয় ন্যায় সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এই ঘটনার পর কোচিং সেন্টার পরিচালনাকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীর সুরক্ষার জন্য কঠোর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে, কোচিং সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক মিডিয়াতেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীর সুরক্ষা ও যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, রাকিব মিয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



