যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গত বুধবার ফোনে সংযোগ স্থাপন করেন। উভয় নেতাই পরে সামাজিক মাধ্যমে এই কথোপকথনকে ইতিবাচক বলে প্রকাশ করেন। কলের সময় তেল, খনিজ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচিত হয়। এই সংলাপের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড়ের সূচনা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
মার্চের প্রথম দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। মাদুরোর গ্রেফতার পর ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই পরিবর্তনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
রদ্রিগেজের অন্তর্বর্তী শাসনকালে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্পের অফিসিয়াল সামাজিক মিডিয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, ফোনালাপে উভয় পক্ষ তেল, খনিজ সম্পদ, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা করেছে। পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলাকে স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাসের তীব্র উত্তেজনার পর এই ফোনালাপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নাটকীয় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদ, যদিও উৎপাদন কম, একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই তেল সংক্রান্ত আলোচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রদ্রিগেজ কলকে দীর্ঘ, ফলপ্রসূ এবং শালীন বলে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় দেশের স্বার্থে একটি দ্বিপাক্ষিক এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার বিষয়বস্তুতে তেল রপ্তানি, খনিজ উত্তোলন, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, এই সংলাপ ভবিষ্যতে দু’দেশের সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে রদ্রিগেজ মাদুরোর গ্রেফতারকে “অপহরণ” বলে সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি মাদুরোকে মুক্তি দিয়ে দেশীয় শাসন পুনরুদ্ধার করার দাবি তীব্রভাবে প্রকাশ করেন। তবে বর্তমান ফোনালাপে উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্পের পরে প্রকাশিত মন্তব্যে তিনি রদ্রিগেজকে “দুর্দান্ত মানুষ” হিসেবে প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রদ্রিগেজের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে জানান। এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংযোগ বজায় রাখতে চায়।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও স্বীকৃতি অর্জনের চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের সঙ্গে এই ফোনালাপকে একটি কূটনৈতিক সেতু হিসেবে ব্যবহার করে তারা অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়ার আশা করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও খনিজ সম্পদের প্রতি আগ্রহও এই সংলাপকে প্রভাবিত করেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি এই আলোচনার ফলস্বরূপ কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি বা তেল রপ্তানি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা দিতে পারে। তবে তেল উৎপাদন বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা হ্রাসের প্রয়োজন থাকবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল মজুদকে সুরক্ষিত করে তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি কৌশলগত লক্ষ্য। তেল রপ্তানি বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমে যাবে এবং ভেনেজুয়েলা তার অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। এই পারস্পরিক স্বার্থ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
পরবর্তী ধাপে উভয় দেশই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক মিটিংয়ের পরিকল্পনা করতে পারে। ট্রাম্পের প্রশাসন সম্ভবত ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিদের ওয়াশিংটন বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমন্ত্রণ জানাবে। রদ্রিগেজের দলও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতি ও আইনি কাঠামো প্রস্তুত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের ফোনালাপ তেল, খনিজ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। উভয় পক্ষই এই সংলাপকে ফলপ্রসূ এবং শালীন বলে মূল্যায়ন করেছে, এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।



