ইরানে চলমান প্রতিবাদে সশস্ত্র দমন কমে যাওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক সপ্তাহে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের হার হ্রাস পেয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর এখনো বিশাল সংখ্যক প্রতিবাদকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা নেই।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরও ইরানীয় শাসকগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা বলেন, কোনো বড় আকারের সামরিক অভিযান ইরানের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আমেরিকান ঘাঁটিগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে শাসন পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়বে, যা জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী যেমন কুর্দি ও বেলুচদের বিদ্রোহকে উস্কে দিতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অনিরাপদ হাতে পড়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
রয়টার্সকে জানানো চারটি সূত্রের মতে, বর্তমান প্রতিবাদ ইরানের শাসনের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তবে কোনো সরকার পতনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
একজন বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, ইরানে বহু জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বিদ্যমান, তাদের হাতে অপ্রকাশিত রসায়নিক পদার্থ এবং অনিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে। দশকেরও বেশি সময় ধরে শরণার্থী প্রবাহ এবং মানবিক সংকটের পরিণতি দেশকে অস্থির করে তুলেছে।
বিশ্লেষক বেহনাম বেন তালেবলু বলেন, শাসন পরিবর্তনের আশঙ্কা বাস্তবায়িত হলে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। তিনি ইরানের মোল্লাতন্ত্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান এমন বড় প্রতিবাদে মুখোমুখি হয়নি।
প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে যুক্ত হওয়া মানুষদের সংখ্যা বিশাল, এবং ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ইরানি সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরও তিনি ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে খারিজ করেননি, তবে তিনি হিংসা হ্রাসের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এখন নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক কূটনীতিকরা সতর্ক করেন, কোনো হঠাৎ সামরিক পদক্ষেপ ইরানের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যীয় ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বড়সড় সামরিক অভিযান চালায়, তবে ইরানের অভ্যন্তরে শাসন পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়বে, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবিক সংকটকে তীব্র করবে।
ইরানের শাসকগণ এখনো কোনো সরকার পতনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখাচ্ছেন না, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এই আন্দোলনের পরবর্তী বিকাশে টিকিয়ে আছে।
এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে হিংসা হ্রাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং সামরিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমিয়ে চলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা সমন্বিতভাবে মত প্রকাশ করেছেন।



