বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাফিক বোর্ডের উদ্যোগে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা থেকে আহত ও নিহত পরিবারের জন্য মোট ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, দুপুর ১২ টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, যিনি বিতরণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব ও লক্ষ্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে পরিচালিত হয় এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর দুই জেলায় মোট ৭০টি চেক বিতরণ করা হয়। কুষ্টিয়া জেলায় ৪৮টি চেকের মাধ্যমে ১.৯ কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়, যেখানে মেহেরপুরে ২২টি চেকের মাধ্যমে ৮২ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। চেকগুলোকে আহত ও মৃতের পরিবারে সমানভাবে ভাগ করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেক শিকারী পরিবারকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয়।
মেহেরপুরে বিতরণকৃত ২২টি চেকের মধ্যে ৮টি চেকের মূল্য ১২ লাখ টাকা, যা সরাসরি আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন খরচে ব্যবহার করা হবে। বাকি ১৪টি চেকের মোট মূল্য ৭০ লাখ টাকা, যা মৃতদের আত্মীয়দের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হয়। এই ব্যবস্থা শিকারী পরিবারকে আর্থিক দিক থেকে কিছুটা স্বস্তি প্রদান করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর পরিচালক ও যুগ্ম সচিব রুবায়েত আশিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট কুষ্টিয়া প্রণব কুমার সরকার, বিআরটিএ খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সকল উপস্থিত কর্মকর্তা চেক বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়োপযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য একত্রে কাজ করেন।
বিআরটিএর কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, সড়ক দুর্ঘটনা শিকারদের সঙ্গে সরাসরি সহায়তা প্রদান এবং তাত্ক্ষণিক আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তারা জানান, এই প্রকল্পটি বহু বছর ধরে চালু রয়েছে, তবে সম্প্রতি পর্যন্ত এর প্রচার যথেষ্ট হয়নি।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দরিদ্র থেকে ধনী পর্যন্ত সকলেরই এই তহবিলের অধিকার আছে এবং শিকারী পরিবারকে সমানভাবে সহায়তা করা উচিত। তিনি প্রকল্পের ব্যাপক প্রচারের জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি শিকারী পরিবার এই সুবিধা পেতে পারে।
বিআরটিএ ট্রাফিক বোর্ডের এই উদ্যোগটি সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এখন থেকে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া আরও সুদৃঢ় করার পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা শিকারদের জন্য এধরনের সহায়তা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে প্রতিটি পরিবারকে প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করা যায়।



