বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রবাসী শ্রমিক দলের দোয়া মাহফিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমর্থনে বক্তৃতা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যারা আগামীতে সরকারে আসবেন তাদের প্রবাসী নাগরিকদের মঙ্গলের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত।
এই সমাবেশটি জাতীয়তাবাদী প্রবাস প্রত্যাগত শ্রমিক দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এবং বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা জানাতে একত্রিত হয়েছে। উপস্থিতদের সামনে নজরুল ইসলাম খান তার মতামত প্রকাশ করেন, যা প্রবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে।
নজরুল ইসলাম খান জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ সরকারকে প্রবাসী ভাই-বোনদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসে কাজ করা, দেশে ফিরে আসা অথবা ভবিষ্যতে প্রবাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করা সকল নাগরিকের মঙ্গলের দায়িত্ব সরকারী।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, কর্মী ও নির্দিষ্ট বাজেট ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে, তিনি বলেন। এই কাঠামোকে শক্তিশালী করে প্রবাসীদের জন্য স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা তিনি তুলে ধরেন।
এ ধরনের উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তিনি বেগম খালেদা জিয়া ও পূর্বের বিএনপি সরকারের অবদান উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা এই অবদানকে চিরকাল স্মরণ রাখবেন।
নজরুল ইসলাম খান প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন; তারা বিদেশে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সঞ্চয় করে দেশে ফেরত আনে। মালয়েশিয়ার জঙ্গলে, মরুভূমির তীব্র গরমে অথবা শীতল তাপমাত্রায় কাজ করা শ্রমিকদের কষ্টের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি সতর্ক করেন, যদি এই সঞ্চয়কে সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হয়, তবে তা দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং প্রবাসীরা আবার দারিদ্র্যের মুখে পড়ে। তাই সঞ্চয়ের সঠিক ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অপরিহার্য, তিনি বলেন।
প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নতুন কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন। পরিবর্তিত সমস্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকা দাবি করেন।
এ জন্য তিনি প্রবাসী প্রত্যাগত শ্রমিক দলের সুপরিকল্পিত উদ্যোগের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। বিদ্যমান আইন, নীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুবিধা বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব, তিনি যুক্তি দেন।
প্রয়োজন হলে বিদ্যমান বিধান বা নীতিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাবও দলটি দিতে পারে, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এই মুহূর্তে সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক খুলে দিয়েছে।
দূতাবাস ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এই ধরনের আহ্বান ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। প্রবাসী ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে, এটাই মূল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
নজরুল ইসলাম খান শেষ করে বলেন, প্রবাসী কল্যাণের জন্য একটি টেকসই কাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পরিবর্তন করা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।



