সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় একারার দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে কয়েকজন যুবক ‘ডেভিল’ বলে ডাকা হয় এবং তাকে আটক করে জকিগঞ্জ থানা‑অফিসারকে সোপর্দ করা হয়। একই সময়ে, ওই যুবকদের একজন জাফর আহমদসহ কয়েকজনকে প্রতিবাদকারী বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদে বাধা দিয়ে আটক করে রাখে।
ঘটনাটি ঘটার পর, জকিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জরুরি বৈঠক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। বৈঠকের সময়ে পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমাতে সমন্বয় করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জকিগঞ্জ থানা‑অফিসার (ওসি) আবদুর রাজ্জাক জানিয়ে দেন যে আবদুস শহীদ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন, তবে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক মামলার অভিযুক্ত নন। তিনি বলেন, আটক করা ব্যক্তিকে সোপর্দ করা হয়েছে, তাই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আবদুস শহীদকে আটক করার সময়, জাফর আহমদসহ কয়েকজন যুবক তাকে ইউনিয়ন পরিষদের এলাকা থেকে নিয়ে গিয়ে থানায় হস্তান্তর করে। জাফর আহমদ জুলাই মাসে জকিগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বাদী। তিনি ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ১০৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তবে এই তালিকায় আবদুস শহীদর নাম অন্তর্ভুক্ত নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই ইউএনও অফিসে জনপ্রতিনিধিদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শেষে মানিকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ‘ডেভিল’ বলে ডাকা হয় এবং জাফর আহমদসহ কয়েকজন যুবক তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই খবর দ্রুতই মানিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা থেকে বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদের দিকে রওনা হয়ে জাফর আহমদ ও তার সঙ্গীদেরকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে বাধা দিয়ে আটক করে রাখে।
অবরুদ্ধকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে ইউএনও একটি অতিরিক্ত বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত সকল পক্ষ উত্তেজনা কমাতে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে সম্মত হয়।
পুলিশের মতে, আবদুস শহীদকে কোনো অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়নি; তিনি কেবল হেফাজতে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি। তবে, তাকে সোপর্দ করা হওয়ায় তার অবস্থান ও অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অবরুদ্ধকৃত যুবকদের সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন তাদের মুক্তি ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে গুরুত্ব দিচ্ছে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা পরবর্তী দিনগুলোতে আদালতে বা তদন্তে বিষয়টি পরিষ্কার করার আশা প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনার পর, জকিগঞ্জে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন শান্তি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত এড়াতে আইনগত প্রক্রিয়া মেনে চলা এবং রাজনৈতিক নেতাদের শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা জরুরি বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, জকিগঞ্জে একাধিক পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চলমান তদন্তের ফলাফল ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



