20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমিনিয়াপোলিসে আইস এজেন্টরা সফটওয়্যার প্রকৌশলী আলিয়া রহমানকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে আটক...

মিনিয়াপোলিসে আইস এজেন্টরা সফটওয়্যার প্রকৌশলী আলিয়া রহমানকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে আটক করেছে

মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমানকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টরা গাড়ি থেকে জোরে বের করে নিয়ে গিয়ে আটক করেছে। ঘটনাটি স্থানীয় প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ঘটেছে। আইসের মুখোশধারী কর্মীরা তার গাড়ির জানালা ভেঙে তাকে বাহিরে নামাতে বাধ্য করে। আলিয়া তখন নিজেকে অসুস্থ বলে দাবি করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রতিবাদকারীরা এজেন্টদের থামাতে চিৎকার করে তাড়া চালায়।

আইস, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি ফেডারেল সংস্থা, অভিবাসন আইন প্রয়োগ, সীমান্ত রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার অভিযান বাড়ার ফলে এ সংস্থার কার্যক্রমের ওপর জনসাধারণের তীব্র নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি আইসের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে, যা এখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

মিনিয়াপোলিসে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদে আইসের দল অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মীরা এই অভিযানকে নিন্দা করে রাস্তায় সমাবেশ করে। আলিয়া, যিনি ওই সময় গাড়িতে ছিলেন, মুখোশধারী এজেন্টদের গাড়ি রোডব্লকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। এজেন্টরা তার গাড়ির কাচ ভেঙে তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়। আলিয়া তখন তার স্বাস্থ্যের অবনতি উল্লেখ করে চিকিৎসা সেবা চায়, তবে এ সময়ই প্রতিবাদকারীরা এজেন্টদের থামাতে চিৎকার করে তাড়া চালায়।

আলিয়া রহমান একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকারকর্মী। তার শৈশবের বেশিরভাগ সময় তিনি বাংলাদেশে কাটিয়েছেন, যেখানে তিনি নারী শ্রমিকদের অধিকার সংগ্রাম দেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করেছেন। পূর্বে তিনি নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ফেলো হিসেবে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। তার পেশাগত প্রোফাইল তাকে কমিউনিটি-ফোকাসড সিকিউরিটি প্র্যাকটিশনার হিসেবে পরিচিত করেছে।

আলিয়া নিজেকে জেন্ডার কুইয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তার কাজের মাধ্যমে লিঙ্গ ও যৌনতা সংক্রান্ত সমতা প্রচার করেন। তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে নীতি পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী তিনি সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ধারণ করেন। এই পটভূমি তাকে প্রযুক্তি ও মানবাধিকার উভয় ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞ করে তুলেছে।

আইসের এই ধরণের জোরপূর্বক গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে আইসের কার্যক্রমে তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আইনগত ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। বিশেষ করে, মুখোশধারী এজেন্টদের দ্বারা গাড়ি ভাঙা ও শারীরিক জোরের ব্যবহার মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই ঘটনা আইসের অপারেশনাল প্রোটোকল ও নাগরিক অধিকার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

মিনিয়াপোলিস পুলিশ এবং আইসের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা দল ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আলিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয়নি, তবে তার অবৈধ অভিবাসী অবস্থার ভিত্তিতে আইসের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। আইসের দায়িত্বে থাকা এজেন্টদের আচরণ ও ব্যবহৃত জোরের মাত্রা পর্যালোচনা করা হবে, এবং প্রয়োজনীয় হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আলিয়া এবং তার আইনজীবী দল আইসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে অভিবাসন নীতি ও এজেন্টের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে আইসের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফল এবং মিনিয়াপোলিসের স্থানীয় আদালতে সম্ভাব্য শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইসের কর্মীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে, মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আইসের অপারেশনাল নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে চলেছে। এই প্রক্রিয়ায় আইসের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির দিকনির্দেশনা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments