20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধথাইল্যান্ডে নির্মাণ ক্রেন ধসে দুইজনের মৃত্যু, একই কোম্পানির আরেকটি দুর্ঘটনা

থাইল্যান্ডে নির্মাণ ক্রেন ধসে দুইজনের মৃত্যু, একই কোম্পানির আরেকটি দুর্ঘটনা

থাইল্যান্ডের রাজধানীর উপশহর সামুট সাখনে এক নির্মাণ ক্রেন হাইওয়ের ওপর ধসে দুই কর্মীর প্রাণ ত্যাগ করে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার, যখন ক্রেনটি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজের মাঝখানে হঠাৎ নেমে আসে। একই দিনে দেশের অন্য প্রান্তে আরেকটি ক্রেন দুর্ঘটনা ঘটায় ৩২ জনের মৃত্যু, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

সামুট সাখনের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ সাইটে কাজ করা ক্রেনটি হাইওয়ের ওপর নেমে গাড়িগুলোকে চূর্ণ করে দেয়। ভিডিওতে দেখা যায় ধ্বংসাবশেষের ধুলো ও ধাতব টুকরো রাস্তার ওপর ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ট্রাফিক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে কয়েকটি গাড়ি ক্রেনের নিচে আটকে যায়, যা সরাসরি দুই কর্মীর মৃত্যুর কারণ হয়।

মৃত্যুর সংখ্যা দুই, তবে আহতদের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় জরুরি সেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা শুরু করে। মৃতদেহগুলোকে পরে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

একই সময়ে, নাখন রাচাসিমা প্রদেশে আরেকটি নির্মাণ ক্রেন রেলপথের ওপর পড়ে ৬০েরও বেশি যাত্রী আহত হয়। ওই ক্রেনটি চলমান ট্রেনের ওপর নেমে গিয়ে বড় আঘাত হানে, ফলে বহু মানুষ আহত হয়। এই দু’টি ঘটনা একদিনের মধ্যে ঘটায়, যা দেশের নির্মাণ সেক্টরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।

উভয় প্রকল্পই ইতালীয়-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির তত্ত্বাবধানে চলছে, যা থাইল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ নির্মাণ সংস্থা। একই কোম্পানি পূর্বে ব্যাংককের একটি স্কাইস্ক্র্যাপারও নির্মাণ করছিল, যা গত মার্চ ভূমিকম্পের সময় ধসে পড়ে। সেই ঘটনার ফলে কোনো ভবন ধসে না গেলেও, স্কাইস্ক্র্যাপারটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দেশে নির্মাণ কাজের সময় নিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। দুর্বল তদারকি ও অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সরকারও এই বিষয়গুলোতে সংশোধনী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।

গত সাত বছরে, ব্যাংকক থেকে দেশের দক্ষিণে যাওয়া রোড ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পে প্রায় ১৫০ জনের বেশি মৃত্যু ঘটেছে। এই সংখ্যা নির্মাণ সাইটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের সরাসরি ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।

যে এক্সপ্রেসওয়ে যেখানে ক্রেন ধসে পড়ে, সেখানে স্থানীয়ভাবে “ডেথ রোড” নামে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই রাস্তায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা এর খারাপ সুনামকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতি চর্ণবিরাকুল এই দু’টি ঘটনার পর নির্মাণ কাজের অযৌক্তিকতা ও অবহেলা মোকাবিলার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

থাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতালীয়-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে। কোম্পানিটিকে রেলওয়ে সিস্টেমের ক্ষতি ও মানবিক ক্ষতির জন্য দায়ী করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দু’টি দুর্ঘটনা এবং পূর্বের স্কাইস্ক্র্যাপার ধসের পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত দলগুলো ক্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড, কাজের অনুমোদন ও সাইটের নিরাপত্তা প্রোটোকল পরীক্ষা করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতে কোম্পানির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জরিমানা ও নির্মাণ লাইসেন্স বাতিলের মত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রয়োগের জন্য নীতি পরিবর্তনের আলোচনা চলছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments