বেংগুর নগর থানা-তে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৃষ্টান্তমূলক চলচ্চিত্র শিল্পী দীপক তিজোরি ২.৫ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযোগ দায়ের করেন। তিজোরি, যিনি ১৯৯০-এর দশক থেকে হিন্দি সিনেমায় অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন, তার পরবর্তী চলচ্চিত্রের জন্য বিনিয়োগ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি “টম ডিক অ্যান্ড মেরি” শিরোনামের প্রকল্পের স্ক্রিপ্ট ডিসেম্বর ২০২৪-এ সম্পন্ন করে প্রায় ২৫ কোটি টাকার বাজেটের পরিকল্পনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর শুরুর দিকে গোরগাঁয়ের তার বাড়িতে কাবিতা শিবাগ কাপুর নামে এক নারী উপস্থিত হন। তিনি নিজেকে টি-সিরিজ এবং জি নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগযুক্ত বলে দাবি করেন এবং তিজোরিকে তার পরবর্তী চলচ্চিত্রের জন্য সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ইচ্ছুক জানান। পরবর্তীতে তিনি তিজোরিকে ফৌজিয়া আর.সি. নামের আরেকজন মহিলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি জি নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে একটি লেটার অফ ইন্টারেস্ট (LoI) সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন, যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে।
ফৌজিয়া আর.সি. তিজোরিকে জানান যে LoI এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে এবং এর জন্য প্রক্রিয়াকরণ ফি হিসেবে ২.৫ লক্ষ টাকা প্রদান করতে হবে। তিজোরি এই শর্তে সম্মত হয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ একটি স্মারক চুক্তি (MoU) স্বাক্ষর করেন এবং পরের দিন, ২২ ফেব্রুয়ারি, নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠান। তবে, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোনো LoI সরবরাহ করা হয়নি এবং উভয় নারী ফোন ও বার্তা না দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যান।
তিজোরি জানান যে, প্রতারণার অংশ হিসেবে তাকে ফোনে “জোশি” নামের একজন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, যিনি জি নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিত্বকারী বলে দাবি করেন। তবে জি নেটওয়ার্কের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাচাই করার পর জানা যায় যে, ঐ নামের কোনো কর্মচারী প্রতিষ্ঠানটিতে নেই। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিজোরি প্রতারণার সন্দেহে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।
ফিরে কাবিতা শিবাগ কাপুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ বিভাগ এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক রসিদ বা লেনদেনের প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিজোরি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ভবিষ্যতে এই মামলাটি আদালতে নিয়ে গিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চান।
প্রতিবেদন অনুসারে, তিজোরির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের বিশ্লেষণ, মোবাইল ফোন রেকর্ড এবং ইমেল যোগাযোগের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, জি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক LoI জারি করেনি বলে নিশ্চিত করেছে।
এই ঘটনার পর, চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যান্য ব্যক্তিরাও বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তিজোরি নিজে উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে তিনি কোনো তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই করবেন।
অধিক তথ্যের জন্য, সংশ্লিষ্ট থানা ও তদন্তকারী অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। মামলার অগ্রগতি ও আদালতের রায়ের অপেক্ষায়, তিজোরি এবং তার আইনজীবী দল যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।



