ঢাকা মহানগর হাকিম মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে বুধবার ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (USET) এর উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবির কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়‑২) শাহ আলম সিরাজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার মূল অভিযোগ হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি ওয়েবসাইট – www.uset.ac.bd এবং www.uset.edu.bd – এর ডোমেইন বন্ধের জন্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। তাজুল ইসলাম দাবি করেন, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিটিসিএলকে চিঠি লিখে প্রশাসনিক প্যানেলের পাসওয়ার্ড কোনো তৃতীয় পক্ষকে না দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে বিটিসিএল ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একই বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি পাঠায় এবং ২৩,০০০ টাকা ফি ও নথিপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় পে‑অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা গ্রহণ না করে ফেরত পাঠায়। তাজুল ইসলাম বলেন, ডিমান্ড নোটে নির্ধারিত ২৭ নভেম্বরের শেষ তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে ডোমেইন বন্ধের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি আদালতে জবাবদিহিতা ও ন্যায়সঙ্গত বিচার না পেলে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন দায়েরের কথা উল্লেখ করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে, বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয়। তদন্তের ফলাফল জানার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) এবং সহকারী ম্যানেজার (ডোমেইন) অন্তর্ভুক্ত, যাদের ডোমেইন ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওয়েবসাইটের নথিপত্র ও ফি সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ডোমেইন বন্ধের হুমকি তাদের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাজুল ইসলাম আদালতে জোর দিয়ে বলেন, ডোমেইন বন্ধের নির্দেশনা না দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ন্যায়সঙ্গত আচরণ না দেখানোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রাপ্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আদালকে অনুরোধ করেন, ডোমেইন বন্ধের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত রাখতে।
বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, উভয় পক্ষই আদালতের পরবর্তী রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। সিআইডি তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আদালত মামলাটি পুনর্বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি নির্দেশনা জারি করবে। মামলায় উল্লিখিত সকল পক্ষের নাম ও পদবী মূল সংবাদে যেমন উল্লেখ আছে তেমনি রাখা হয়েছে, যাতে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এই মামলার মাধ্যমে ডোমেইন ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্ষমতার ব্যবহার এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে সীমানা কীভাবে নির্ধারিত হবে তা স্পষ্ট হবে বলে বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন। তাজুল ইসলাম এবং তার আইনজীবী দল আদালতে দাবি করছেন, ডোমেইন বন্ধের কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটগুলো কার্যকর থাকবে।
মামলার পরবর্তী শুনানি ও সিআইডি রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা দেশের শিক্ষা ও আইনি ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



