জাতীয় পে-কমিশন আজ (১৫ জানুয়ারি) দুপুর বারোটায় পুরাতন সচিবালয় ভবনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে একত্রিত হয়েছে। এই বৈঠকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি গ্রেড সংখ্যা, ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা, অবসর সুবিধা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সভার ফলাফল সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোকে রূপ দেবে এবং বাজেট পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা ছিল বেতন অনুপাত, গ্রেড স্তর এবং বিভিন্ন ভাতা সংক্রান্ত বিষয়বস্তু। কমিশনের সদস্যরা সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন সীমা, গ্রেডের সংখ্যা, বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং অবসরকালীন সুবিধা ইত্যাদি নিয়ে বিশদ আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া, বেতন কাঠামোর মধ্যে বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি, শিক্ষা ব্যয় এবং আবাসন সংকটের বাস্তব চিত্রকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নির্ধারণের জন্যও সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।
একজন সদস্য, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, উল্লেখ করেছেন যে এইবারের সুপারিশে শুধুমাত্র সংখ্যাত্মক হিসাব নয়, বরং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, শিক্ষা ব্যয় এবং বাড়ি সংকটের বাস্তব অবস্থা প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সূচকগুলোকে অন্তর্ভুক্ত না করলে বেতন কাঠামো বাস্তবিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে। এ ধরনের বিবেচনা কমিশনের সিদ্ধান্তকে আরও সমন্বিত ও ন্যায়সঙ্গত করতে সহায়তা করবে।
গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেতনের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। সেই সময়ে ১:৮, ১:১০ এবং ১:১২ অনুপাতের মধ্যে তুলনা করে কমিশন শেষ পর্যন্ত ১:৮ অনুপাতকে সর্বোচ্চ ন্যায়সঙ্গত হিসেবে গ্রহণ করে। এই অনুপাতের ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর সমন্বয় করা হবে এবং তা পরবর্তী আলোচনার মূল ভিত্তি হবে।
সর্বনিম্ন বেতনের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট সংখ্যা টেবিলে রাখা হয়েছে। প্রথম প্রস্তাবটি ২১,০০০ টাকা, দ্বিতীয়টি ১৭,০০০ টাকা এবং তৃতীয়টি ১৬,০০০ টাকা। এই তিনটি বিকল্পের মধ্যে কোনটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে, তা আজকের বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।
কমিশনের সদস্যদের মধ্যে একমত হওয়া মাত্রই এই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত রূপ পাবে এবং সরকারকে জানানো হবে। বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা অনুমোদিত হলে, সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থায় তা প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হবে।
জাতীয় পে-কমিশন ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল। কমিশনের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শেষে শেষ হওয়ার কথা। এই সময়সীমার মধ্যে নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত করা হলে, পরবর্তী বাজেট পরিকল্পনা ও মানবসম্পদ নীতিতে তা অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হবে।
বৈঠকের শেষে যদি সকল সদস্য একমত হন, তবে আজই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন, গ্রেড সংখ্যা এবং ভাতা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হবে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সরকার সংশ্লিষ্ট আইনসভার মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করতে পারে।
বেতন কাঠামোর পরিবর্তন সরকারি কর্মচারীদের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বাড়ি দামের বৃদ্ধির সময়ে, নতুন বেতন স্কেল কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে, বাজেট সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। তাই, নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পর আর্থিক মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
এই বৈঠকের ফলাফল দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও জনসেবা খাতের উন্নয়নে কী প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে। সরকার ও কর্মচারী উভয়েরই প্রত্যাশা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।
বৈঠকের সমাপ্তি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণার পর, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন তালিকা আপডেট করবে এবং কর্মচারীদের জানাবে। এভাবে, দেশের সরকারি কর্মী বাহিনীর বেতন কাঠামো আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।



