১ জানুয়ারি আইন, ন্যায়বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি আদেশ জারি করে বাণিজ্যিক আদালত গঠন করে, যা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানকে ত্বরান্বিত করা, যাতে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হয়।
আদেশের মাধ্যমে বিশেষায়িত আদালত গঠনের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, যা পূর্বের সিভিল আদালতের অতিরিক্ত চাপ কমাতে সহায়তা করবে। নতুন আদালতে সময়সীমা নির্ধারিত প্রক্রিয়া, কঠোর কেস ম্যানেজমেন্ট এবং পুনর্বিবেচনার সীমাবদ্ধতা থাকবে।
বাণিজ্যিক সংস্থা ও আইনি বিশেষজ্ঞরা এই সংস্কারকে দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণকারী হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, চুক্তি প্রয়োগের দুর্বলতা বিনিয়োগকারীর আস্থা ক্ষয় করে এবং বিদ্যমান সিভিল আদালত ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপ দেয়।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এই আদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা বেসরকারি খাতের দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য বিরোধ সমাধানের দাবিকে পূরণ করে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, এই পদক্ষেপ চুক্তি প্রয়োগের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে দৃঢ় সংকেত দেয়।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ চুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৮৯তম স্থানে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিবেশের দুর্বলতা নির্দেশ করে। এই র্যাঙ্কিং দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এবং সংস্কারকে ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
গত ১৫ বছরে মুলতুবি মামলার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়। সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ৪.৪৪ মিলিয়ন থেকে জুন ২০২৫-এ এই সংখ্যা ৪.৬৫ মিলিয়নে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিচারিক ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের স্পষ্ট চিত্র উপস্থাপন করে।
আদেশের মূল দিকগুলোতে সময়সীমা নির্ধারিত প্রক্রিয়া, কেসের দ্রুত হ্যান্ডলিং এবং পুনর্বিবেচনার সীমা অন্তর্ভুক্ত, যা মামলার দীর্ঘায়ু কমাতে লক্ষ্যবদ্ধ। তাসকিন আহমেদ উল্লেখ করেন, এই ব্যবস্থা পূর্বের সিভিল প্রক্রিয়া কোড ১৯০৮, আর্থা রিন আদালত আইন এবং ২০০১ সালের আরবিট্রেশন আইনের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করবে।
ডিসিসিআই এই নতুন আদালতের কার্যকরী সূচনা এবং প্রয়োগের জন্য সরকারকে পর্যাপ্ত সম্পদ ও প্রশিক্ষিত বিচারক সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, সঠিক কাঠামো এবং কার্যকর তত্ত্বাবধান ছাড়া আদালতগুলো তাদের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হতে পারে।
বাণিজ্যিক আদালতের প্রতিষ্ঠা দেশের ব্যবসা পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রাখে। দ্রুত বিরোধ সমাধান বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াবে, বিদেশি মূলধনের প্রবাহকে উৎসাহিত করবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তবে সফলতা নির্ভর করবে নতুন প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত মানবসম্পদ এবং ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের উপর।



