চট্টগ্রাম ও কুতুবদিয়া নোঙরে রমজান মৌসুমের আগে খাবার আমদানি বাড়ার ফলে বড় জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে, যার ফলে হালকা জাহাজের ঘাটতি ও পণ্য আনলোডে বিলম্ব দেখা দিচ্ছে।
মাতৃ জাহাজের সংখ্যা গত সপ্তাহে ৯০‑এর বেশি পৌঁছেছে, যা সাধারণ সময়ে দেখা ৪০‑৫০ জাহাজের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই জাহাজগুলো মূলত গম, ডাল, ছোলা, কাঁচা চিনি ও ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বহন করছে।
বাণিজ্যিক বিশ্লেষকরা জানান, রমজান পূর্বে ব্যবসায়ীরা আমদানি নিয়মের শিথিলতা এবং ডলার মজুতের উন্নতির সুবিধা নিয়ে দ্রুত পণ্য পাঠাতে চেয়েছেন। ফলে মৌসুমী আমদানিকারকরা, যাদের নিজস্ব গুদাম নেই, পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রবেশে দেরি করছেন অথবা হালকা জাহাজে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য রেখে দিচ্ছেন।
টিকে গ্রুপের শস্য ও লজিস্টিক্স বিভাগ প্রধান সতেজিত দাস বর্মণ উল্লেখ করেন, অধিকাংশ রমজান মজুদ ইতিমধ্যে আমদানি হয়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রবেশ করেছে, তবে হালকা জাহাজের অভাবে আনলোডের গতি কমে গেছে।
হালকা জাহাজের ঘাটতি বন্দর কর্তৃপক্ষের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতার ফলে ঘটছে। বাংলাদেশ জলপরিবহন সমন্বয় সেল (বিডব্লিউটিসিসি) মঙ্গলবারের সর্বশেষ বন্দর বৈঠকে ৫৯টি হালকা জাহাজকে একই সংখ্যক মাতৃ জাহাজে বরাদ্দ করতে সক্ষম হয়েছে, ফলে অন্তত ৩০টি বড় জাহাজের জন্য কোনো আনলোডিং সহায়তা নেই।
সাধারণত একটি মাতৃ জাহাজের এক দিনের আনলোডের জন্য তিন থেকে চারটি হালকা জাহাজের প্রয়োজন হয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক জাহাজের জন্য একটিই বা শূন্যই বরাদ্দ করা হচ্ছে।
এই ঘাটতির ফলে শিপিং খরচ বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, ৫৮,৯৫৫ টন কাঁচা চিনি বহনকারী এমভি প্যাসিফিক জেসমিন ৩০ ডিসেম্বর নোঙরে পৌঁছায়, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ২৭,০০০ টনই আনলোড হয়েছে।
বড় পরিমাণে খাবার পণ্যের আনলোডে বিলম্ব রমজান মৌসুমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়াতে পারে। গম, ডাল, ছোলা ও তেলসহ মৌলিক খাদ্যদ্রব্যের দামের ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিপিং এজেন্টরা জানিয়েছেন, হালকা জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক মাতৃ জাহাজের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করতে হচ্ছে, যা লজিস্টিক্সের অদক্ষতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সীমিত হালকা জাহাজের সরবরাহ এবং মাতৃ জাহাজের অতিরিক্ত উপস্থিতি ভবিষ্যতে আমদানি খরচ বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষত যখন ডলার রেটের ওঠানামা বিদ্যমান।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, স্বল্পমেয়াদে হালকা জাহাজের সংখ্যা বাড়াতে অতিরিক্ত জাহাজের অনুমোদন বা স্থানীয় রিভার্স লোডিং সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে গুদাম ও সংরক্ষণ সুবিধা উন্নয়ন করে মৌসুমী আমদানিকারকদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়ানো দরকার।
যদি হালকা জাহাজের ঘাটতি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে রমজান মৌসুমে খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহে ঘাটতি এবং মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে, যা শেষ গ্রাহকের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ এই ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।



