বেঙ্গালুরুর এক তরুণ, অভিক ভট্টাচার্য, সম্প্রতি তার প্রেমিকার ২৬তম জন্মদিন উদযাপনের জন্য ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দৌড়ে অংশ নেন। এই উদ্যোগটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের কাছ থেকে প্রশংসা পায়।
দৌড়ের সময় অভিক কোনো ইয়ারফোন ব্যবহার করেননি, যাতে তিনি পুরো মনোযোগ দিয়ে দৌড়ের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে পারেন এবং প্রেমিকার সঙ্গে কাটানো সুখের স্মৃতিগুলো তাজা করে তুলতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই স্মৃতিচারণই তাকে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রেরণা জুগিয়েছে।
দৌড়টি সম্পন্ন করার পর তিনি জানান, দুই সপ্তাহের মধ্যে মুম্বাইতে একটি বড় ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তবে এই বিশেষ দৌড়টি তিনি শুধুমাত্র তার প্রেমিকার জন্মদিনের জন্য উৎসর্গ করেছেন। এই কথা শেয়ার করার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ব্যবহারকারীরা তার এই অদ্ভুত উপহারকে সৃজনশীলতা এবং প্রেমের নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
অভিকের এই উদ্যোগ কেবল ব্যক্তিগত উদযাপন নয়, বরং শারীরিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং দৌড়ের মাধ্যমে মানসিক শক্তি বাড়ানোর উদাহরণ হিসেবেও দেখা যায়। তিনি দৌড়ের সময় যে মনোযোগ এবং স্মৃতিচারণের পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন, তা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
দৌড়ের দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার, যা তার প্রেমিকার বয়সের সঙ্গে সমান, ফলে এই কাজটি সংখ্যাগতভাবে ও মানসিকভাবে দু’টি স্তরে বিশেষ অর্থ বহন করে। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিগুলোতে তিনি দৌড়ের পথে বিভিন্ন দৃশ্য এবং তার মুখের অভিব্যক্তি দেখা যায়, যা তার দৃঢ়সংকল্পের প্রমাণ।
অনলাইন মন্তব্যগুলোতে ব্যবহারকারীরা তার এই উদ্যোগকে “প্রেমের নতুন রূপ” এবং “শারীরিক চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ” হিসেবে প্রশংসা করেছেন। কিছু মন্তব্যে তিনি যে দৌড়ে ইয়ারফোন না ব্যবহার করে স্মৃতিচারণের জন্য সময় নেন, তা মনোযোগের প্রশিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুম্বাই ম্যারাথনের প্রস্তুতি নিয়ে অভিকের মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি এই বড় ইভেন্টের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে এই মুহূর্তে তিনি তার প্রেমিকাকে উৎসর্গ করা বিশেষ দৌড়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি এই ধরনের দৌড়কে আরও বেশি করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে ইচ্ছুক বলে প্রকাশ করেছেন।
ক্রীড়া জগতে এই ধরনের ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলো প্রায়ই মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তবে অভিকের ক্ষেত্রে এটি সামাজিক নেটওয়ার্কে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তার দৌড়ের পেছনের উদ্দেশ্য এবং পদ্ধতি কেবল শারীরিক ফিটনেস নয়, বরং মানসিক সংযোগের প্রতিফলন।
বেঙ্গালুরুর স্থানীয় দৌড় ক্লাবের সদস্যরা এই উদ্যোগকে প্রশংসা করে এবং ভবিষ্যতে এমন আরও উদ্যোগের প্রত্যাশা প্রকাশ করে। তারা উল্লেখ করেন, দৌড়ের সময় স্মৃতিচারণের জন্য ইয়ারফোন না ব্যবহার করা একটি অনন্য পদ্ধতি, যা দৌড়ের মানসিক দিককে উজ্জীবিত করে।
সংক্ষেপে, অভিক ভট্টাচার্যের ২৬ কিলোমিটার দৌড় তার প্রেমিকার জন্মদিনে একটি সৃজনশীল এবং শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং উপহার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে এবং ক্রীড়া ও প্রেমের সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে।
আসন্ন মুম্বাই ম্যারাথন সম্পর্কে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, এবং অভিকের মতো তরুণ দৌড়বিদদের জন্য এটি একটি বড় মঞ্চ হতে পারে। তবে বর্তমানে তার মনোযোগ তার প্রেমিকার জন্মদিনের জন্য নিবেদিত বিশেষ দৌড়ে কেন্দ্রীভূত, যা তার ব্যক্তিগত ও ক্রীড়া জীবনের মধ্যে একটি সুমধুর সমন্বয় তৈরি করেছে।



