20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনোয়াখালীর মাদরাসায় শিক্ষক পালিয়ে যাওয়া ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা

নোয়াখালীর মাদরাসায় শিক্ষক পালিয়ে যাওয়া ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর চর হাসান গ্রামে ১৩ জানুয়ারি রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টার মধ্যে একটি মাদরাসায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান (৩৫), যিনি পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা, ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল দ্রুত পৌঁছে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অভিযোগ অনুসারে, ১৩ বছর বয়সী ছাত্রী এবং প্রধান শিক্ষকের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ৭ জানুয়ারি শিক্ষক ছাত্রীকে নিয়ে গৃহে ফিরে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ছাত্রীটি পূর্বে একই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বর্তমানে নোয়াখালি সদর উপজেলার নুরু পাটোয়ারীহাট মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

মাদরাসার দরজা বন্ধ করার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবার মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়, ফলে প্রায় এক সপ্তাহ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকা সময়ের মধ্যেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মাদরাসায় অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। দমকলের জানালা থেকে জানানো যায়, আগুনের সময় মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না এবং কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ঘটনার পরপরই সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওসমান এবং চরজব্বর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উভয়ই জানান, মাদরাসায় তালা দেওয়া ও শিক্ষক ছাত্রী নিয়ে পালানোর বিষয়টি আগে জানানো হয়নি। তারা উল্লেখ করেন, এই ঘটনা একটি গুরুতর অপরাধ এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চরজব্বর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান নিশ্চিত করেন, অগ্নিকাণ্ডে কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় কোনো প্রাণহানি হয়নি। ভুক্তভোগীর পরিবার সুধারাম মডেল থানায় শিক্ষককে নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের বর্তমান অবস্থান অজানা, তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, মাদরাসার ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তারা বলছে, শিক্ষাক্ষেত্রে এমন ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক ও সহিংসতা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ও তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকল সংস্থা একত্রে কাজ করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয় এবং পালিয়ে যাওয়া শিক্ষকের অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments