ঢাকার বেইলি রোডে বুধবার ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানটি “রুটস টু লিগ্যাসি : প্লাটিনাম জুবিলি সেলিব্রেশন” শিরোনামে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান নিজেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল পরিবারের সদস্য হিসেবে গর্বিত বোধ করে কথা শুরু করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে অসংখ্য যোগ্য ও স্বনামধন্য শিক্ষার্থী তৈরি করেছে এবং যারা এই সাফল্যের পেছনে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের উপরে রাখার গুরুত্ব। তিনি বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মঙ্গলে মনোনিবেশ করা এবং সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে প্রকৃতি ও প্রাণীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা।
পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে তিনি প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। রিজওয়ানা উল্লেখ করেন, প্লাস্টিকের বোতল থেকে কাচের গ্লাসে রূপান্তর করা শুধু মূল্যবোধের বিষয় নয়, বরং আমাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্যও জরুরি। তিনি উপস্থিত সবাইকে পরিবারে প্লাস্টিকের ব্যাগের বদলে পুরনো চটের ব্যাগ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেন, কারণ প্লাস্টিকের কণিকা রক্ত, ফুসফুস ও মায়ের দুধে পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
রাজনীতি ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক সচেতনতা অপরিহার্য। ব্যক্তিগত সাফল্য যদিও পরিবারে উদযাপিত হয়, তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের সাফল্য পুরো জাতি উদযাপন করে। তাই দেশকে বদলাতে হলে প্রথমে নিজেকে বদলাতে হবে, এই বার্তা তিনি জোর দিয়ে বলেন।
অনুষ্ঠানে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্তর্বর্তী কমিটির সভাপতি মো. আজমল হক এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিনও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। উভয়েই স্কুলের ঐতিহাসিক যাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান শেষ পর্যায়ে কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সমাপ্ত করেন। কেক কাটার পর তিনি বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন, যা উপস্থিত সকলের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে।
এই অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। রিজওয়ানা হাসানের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়িত্বের ওপর জোর দেওয়া বার্তা বিশেষভাবে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে বলে আশা করা যায়।
শিক্ষা ও পরিবেশের সংযোগ স্থাপন করে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার মাধ্যমে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব গড়ে তোলা সম্ভব। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশ-বান্ধব কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত করা উচিত।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা এছাড়াও শিক্ষার্থীদেরকে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে তাদের পেশাগত লক্ষ্য নির্ধারণের সময় দেশের চাহিদা ও পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা উচিত। এভাবে তারা ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে জাতির উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে উপস্থিত সকলের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যবদ্ধ অনুভূতি দেখা যায়। স্কুলের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়া এই মাইলফলকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অ্যালামনাই ও অতিথিরা একসাথে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের মূল সুত্রটি ছিল “দেশের জন্য কাজ করা, নিজের জন্য নয়”। তিনি এই নীতিকে বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেককে ছোটখাটো পরিবর্তন থেকে শুরু করতে আহ্বান জানান।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ, বোতল ও কন্টেইনার ব্যবহার করুন এবং পরিবারে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ছোট ছোট আলোচনা চালিয়ে যান। এই সহজ পদক্ষেপগুলো পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।



