ব্রিটিশ সরকার বুধবার জানিয়েছে যে তেহরানে অবস্থিত তার দূতাবাসকে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং সকল কনস্যুলার কার্যক্রম দূর থেকে পরিচালিত হবে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের জন্য তার ভ্রমণ নির্দেশিকা হালনাগাদ করেছে।
ব্রিটিশ দপ্তরের মুখপাত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পর দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদেরকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের দায়িত্ব এখন দূরবর্তী কেন্দ্র থেকে সমন্বয় করা হবে, যা কনস্যুলার সেবা প্রদানকে সীমিত করবে তবে জরুরি সহায়তা বজায় থাকবে।
এই পদক্ষেপটি ইরানের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সময়ে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরানে ব্যাপক প্রতিবাদ, ধ্বংসাত্মক দাঙ্গা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের পরিমাণ বেড়েছে, যা বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নীতিকে প্রভাবিত করেছে।
ইউ.এস. প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে জানান যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে ওয়াশিংটনের পার্শ্ববর্তী ঘাঁটি থাকা দেশগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এই ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী প্রত্যাহার করেছে। কর্মী প্রত্যাহারটি কেবল নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং উভয় দেশের কূটনৈতিক কৌশলের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি পুনর্বিবেচনা করার সংকেত দেয়।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের বন্ধ হওয়া ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংযোগস্থলকে প্রকাশ করে। তিনি বলেন, দূতাবাসের কার্যক্রমের রিমোটাইজেশন ভবিষ্যতে কনস্যুলার সেবার পুনরায় গঠন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়াতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও দূতাবাসের বন্ধের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করেনি, তবে পূর্বে প্রকাশিত নিরাপত্তা সতর্কতা নির্দেশ করে যে দেশটি বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অনুমান করছেন যে, যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকে, তবে আরও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে সমান ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করা হতে পারে। একই সঙ্গে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী প্রত্যাহার মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উপস্থিতি পুনর্গঠন এবং কূটনৈতিক সংলাপের নতুন রূপের সূচনা করতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাজ্য সরকার তেহরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং দূতাবাসের পুনরায় খোলার সময়সূচি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সিদ্ধান্ত নেবে। তদুপরি, ভ্রমণ নির্দেশিকায় আপডেটেড তথ্য যুক্তরাজ্য নাগরিকদের জন্য প্রকাশিত থাকবে, যাতে তারা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারে।



