এনসিসি ব্যাংক পিএলসির নতুন ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) অনুযায়ী, মাসে সর্বনিম্ন ১৩,৮০৩ টাকা জমা দিয়ে ২০ বছরের শেষে এক কোটি টাকা অর্জন করা সম্ভব। এই স্কিমটি ১০% বার্ষিক সুদের হারে ভিত্তিক এবং বিভিন্ন সময়সীমার জন্য ভিন্ন মাসিক কিস্তি নির্ধারিত। ব্যাংকটি এই পরিকল্পনা দিয়ে সঞ্চয়কে সম্পদ সৃষ্টির সরঞ্জাম হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে ধনী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যায়।
দুই বছরের মেয়াদে কোটিপতি হতে চাইলে মাসিক কিস্তি ৩,৭৬,৪৩৬ টাকা, যা তুলনামূলকভাবে উচ্চ, তবে মাত্র দুই বছরে এক কোটি টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব। তিন বছরের জন্য কিস্তি ২,৩৮,৮২৬ টাকা, চার বছরের জন্য ১,৭০,৩৩৩ টাকা, এবং পাঁচ বছরের জন্য ১,২৯,৪৮৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। সময়সীমা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাসিক পরিশোধ কমে, ফলে ১০ বছরের মেয়াদে কিস্তি ৪৯,৬০২ টাকা, ১৫ বছরে ২৪,৮৮১ টাকা, আর ২০ বছরে মাত্র ১৩,৮০৩ টাকা।
সুদের হার ১০% ধার্য করা হয়েছে, যা বাজারের গড়ের তুলনায় আকর্ষণীয়। মেয়াদ যত দীর্ঘ, মাসিক কিস্তি তত কম, ফলে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় পরিকল্পনা সহজ হয়। তবে, ডিপিএসের শর্ত অনুসারে সময়ের আগে তহবিল উত্তোলন করলে নির্ধারিত শাস্তি আরোপিত হয়, যা ফিক্সড ডিপোজিটের নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই স্কিমে অংশগ্রহণের জন্য কোনো বিশেষ শর্ত নেই; যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং কোম্পানি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। অপ্রাপ্তবয়স্কের নামেও অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, তবে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আইনি অভিভাবককে পরিচালনা করতে হবে। একক বা যৌথ নামে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব, যা পরিবারিক সঞ্চয়কে সমন্বিত করতে সহায়তা করে।
ডিপিএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও এসএমএস সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, ফলে গ্রাহকরা অনলাইন বা মোবাইলের মাধ্যমে সহজে লেনদেন করতে পারে। এছাড়া, চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ডিপিএসে তহবিল স্থানান্তর করা যায়, যা সঞ্চয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। এই সুবিধাগুলি বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য উপকারী, যারা স্বয়ংক্রিয় সঞ্চয় পদ্ধতি পছন্দ করে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় পরিকল্পনা দেশের সঞ্চয় হার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিবেশে সুদের হার স্থিতিশীল থাকায়, এই ধরনের স্কিমে গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত সুদের হার সমন্বয় করতে হবে, যাতে গ্রাহকের প্রত্যাশা পূরণ হয় এবং আর্থিক ঝুঁকি কমে।
ডিপিএসের মূল লক্ষ্য হল সঞ্চয়কে সম্পদে রূপান্তর করা, যা ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এক কোটি টাকা অর্জনের মাধ্যমে গ্রাহকরা বড় ব্যবসা, সম্পত্তি ক্রয় বা উচ্চশিক্ষা ফি ইত্যাদি বড় আর্থিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। ফলে, এই স্কিমটি শুধু সঞ্চয় নয়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবেও কাজ করবে।
অবশ্যই, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের আগে গ্রাহকদের আর্থিক পরিকল্পনা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা উচিত। মাসিক কিস্তি ধারাবাহিকভাবে পরিশোধ করতে সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ আয় ও ব্যয়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তদুপরি, ডিপিএসের শর্তাবলী ও শাস্তি সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, যাতে অপ্রত্যাশিত আর্থিক ক্ষতি এড়ানো যায়।
এনসিসি ব্যাংকের এই উদ্যোগটি দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সঞ্চয় সংস্কারকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। সরকারী কর ও শুল্কের ধার্য্যতা সত্ত্বেও, স্কিমের মোট রিটার্ন আকর্ষণীয় রয়ে গেছে, যা গ্রাহকের আস্থা জয় করেছে। ভবিষ্যতে, অন্যান্য ব্যাংকও অনুরূপ স্কিম চালু করতে পারে, ফলে সঞ্চয় বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং গ্রাহকের জন্য আরও সুবিধাজনক শর্ত তৈরি হবে।
সারসংক্ষেপে, মাসিক ১৩,৮০৩ টাকা থেকে শুরু করে ২০ বছরের মধ্যে এক কোটি টাকা অর্জনের সুযোগ এনসিসি ব্যাংকের ডিপিএসে রয়েছে। সুদের হার, সময়সীমা এবং কিস্তির বৈচিত্র্য গ্রাহকের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী নির্বাচনকে সহজ করে। তবে, সময়ের আগে তহবিল উত্তোলনের শর্ত ও শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, যাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী সঞ্চয় সম্পন্ন হয় এবং আর্থিক স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়।



