বুধবার দুপুর ১১:৩০ টার কাছাকাছি নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের সামনে এক যুবককে ছাত্রলীগের কর্মীরা হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনজীবীরা হস্তক্ষেপ করে হেনস্থাকারীদের আটকাতে চেষ্টা করেন। পরে সংশ্লিষ্ট ছাত্রলীগ কর্মীদের জেলা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
হেনস্থার শিকার যুবকের নাম সজীব মিয়া, যিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় কুমারগাঁথা ইউনিয়নের বাসিন্দা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের প্রাক্তন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান ফারহান ও তার কয়েকজন সহচর আদালতের সামনে সজীবকে ঘিরে ধরেন।
সজীবের শার্টের কলার শক্ত করে টেনে হেনস্থা করা হয় এবং শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়। ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ উপস্থিত আইনজীবীরা লক্ষ্য করে, তারা হেনস্থাকারীদের পথে বাধা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। হেনস্থার পর, আইনজীবীরা সংশ্লিষ্ট ছাত্রলীগ কর্মীদের জেলা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে আদালতের প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেন।
অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর রাজীব মণ্ডল, যিনি সজীবের আইনজীবীও, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। মণ্ডল জানান, সজীবের বাড়ি মুক্তাগাছা উপজেলায় এবং তার এক্স-স্ত্রী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। সজীব জামিনে আছেন এবং আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন।
মণ্ডল উল্লেখ করেন, এই ঘটনা ছাত্রলীগের বিষয় নয় এবং সজীবের বিরুদ্ধে কোনো সংশ্লিষ্ট মামলা নেই। তিনি বলেন, হেনস্থাকারীকে আদালত থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে ছাত্রলীগ কর্মী তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেয়। মণ্ডল জোর দিয়ে বলেন, আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে হেনস্থা অপরাধ এবং তা যথাযথভাবে শাস্তি পাবে।
সজীবের এক্স-স্ত্রী এবং মেহেদি হাসান ফারহান উভয়ই দাবি করেন, সজীব কুমারগাঁথা ইউনিয়নের সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী এবং সরকার পতনের পরও সামাজিক মাধ্যমে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। এক্স-স্ত্রী বলেন, আদালতে ওঠার সময় হেনস্থার ঘটনা জানেননি; আদালতে উপস্থিত তার আইনজীবী বিষয়টি উত্থাপন করার পরই তিনি জানেন।
মেহেদি হাসান ফারহানও একই রকম মন্তব্য করেন, তিনি সজীবকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তার কর্মকাণ্ডের প্রতি অব্যাহত সমর্থন প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে হেনস্থার ঘটনা আদালতে গৃহীত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং হেনস্থার ভিডিও রেকর্ডিং ও সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহ করছে। হেনস্থা অপরাধের শাস্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে।
আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে, যেখানে হেনস্থার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। আইনজীবীরা হেনস্থার শিকারকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর, নারায়ণগঞ্জের বিচারিক পরিবেশে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উত্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আদালত প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের হিংসা না ঘটতে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখা হবে।



