হেবা মুরাইসি ও কামরান আহমেদ, যাদের প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং বর্তমানে রিম্যান্ডে আটক, ৭৩ দিনব্যাপী হাংরি স্ট্রাইক শেষ করেছেন। দুজনই তাদের সংশ্লিষ্ট কারাগারে প্রতিবাদ শেষ করার ঘোষণা তাদের সমর্থকদের প্রকাশিত বিবৃতিতে দিয়েছেন।
মিনিস্ট্রি অফ জাস্টিস (MoJ) গত দুই মাসে এই প্রতিবাদ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে পূর্বে সমর্থকদের জানানো তথ্যকে বিরোধিতা করেনি। হাংরি স্ট্রাইক চলাকালীন সময়ে চারজন সহধারী, যারা একই সময়ে নভেম্বরের শুরুর দিকে এই পদক্ষেপে যুক্ত হয়েছিলেন, গত মাসে তাদের প্রতিবাদ শেষ করে দিয়েছেন।
এই গ্রুপের মূল অভিযোগ হল রিম্যান্ডের সময়কাল অত্যধিক দীর্ঘ, যা আদালতের ব্যাকলগের কারণে এক বছরের কাছাকাছি পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিচারিক দেরি ও অপরাধের শাস্তি নির্ধারণে রিম্যান্ডের এই দীর্ঘ সময়কে তারা অবৈধ বলে বিবেচনা করে প্রতিবাদ চালিয়ে গিয়েছেন।
কামরান আহমেদ বুধবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। সমর্থকরা জানিয়েছেন যে, হেবা মুরাইসি ও কামরান আহমেদ এখন টেউটা হক্সা, জোন সিংক, কেসার জুহরাহ এবং অ্যামি গার্ডিনার-গিবসন (অ্যামু গিব) সহ অন্যান্য হাংরি স্ট্রাইকারদের সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত পুনঃখাদ্য গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আছেন, যা কারাগারগুলোর হাংরি স্ট্রাইক ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকায় নির্ধারিত।
একজন সপ্তম ধরা পড়া বন্দি, যিনি পূর্বে অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে প্রতি অন্য দিন খাবার গ্রহণে বিরত ছিলেন, তাও তার প্রতিবাদ শেষ করেছেন।
প্রতিবাদ চলাকালে গ্রুপটি মোট পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছিল: প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সংগঠনের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি প্রতিরক্ষা ফার্ম বন্ধ করা, এবং কারাগারের অবস্থান ও বন্দিদের আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগ সমাধান করা।
সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা ইতিমধ্যে সিনিয়র জাজদের দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে পর্যালোচনাাধীন। জামিনের সিদ্ধান্ত জাজদের হাতে, সরকার বা মন্ত্রীরা এতে সরাসরি অংশ নেয় না, এবং রিম্যান্ডের সময়কাল নির্ধারণেও মন্ত্রীর কোনো ভূমিকা নেই।
ক্রিসমাসের আগে হাংরি স্ট্রাইকারদের আইনজীবীরা তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থার ওপর আইনি পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তারা বা MoJ কর্মকর্তারা কোনোভাবে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না।
সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিকল্প প্রস্তাবও করা হয়েছে, যেখানে হাংরি স্ট্রাইকারদের এবং সরকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা হবে, যদিও এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত।
এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বিচারিক ব্যবস্থা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। রিম্যান্ডের দীর্ঘ সময়কাল এবং হাংরি স্ট্রাইক সংক্রান্ত চিকিৎসা প্রোটোকল নিয়ে ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি পরিবর্তন হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে এই বিষয়টি তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



