২০২৬ সালের গল্ডেন গ্লোবসের বাণিজ্যিক বিরতির সময় লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওকে ক্যামেরার বাইরে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে উচ্ছ্বসিতভাবে আলাপ করতে দেখা যায়। সেই অজানা ব্যক্তির পরিচয় শেষ পর্যন্ত টেয়ানা টেলর, যিনি ডি ক্যাপ্রিওর সঙ্গে “ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার” ছবিতে কাজ করছেন, প্রকাশ করেন। টেলর জানান, পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে তিনি এবং ডি ক্যাপ্রিও কেপপ ডেমন হান্টার্স নামের অ্যানিমেটেড ছবির সাফল্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
টেলর গল্ডেন গ্লোবসের পরের দিন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় স্পষ্ট করেন, ডি ক্যাপ্রিও তার দিকে তাকিয়ে হেসে হেসে কথোপকথন শুরু করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি কেপপ ডেমন হান্টার্সের গান ‘গোল্ডেন’ শুনে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলাম, কারণ আমার সন্তানদেরও এই গানটি খুব পছন্দ।” এ সময় ডি ক্যাপ্রিও তার সঙ্গে সেই গানের ওপর মন্তব্য করে, ফলে দুজনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে আলাপ শুরু হয়।
টেলর গল্ডেন গ্লোবসের রাত্রিতে নিজেকে বেশ কিছু সময়ের জন্য অচেতন বলে বর্ণনা করেন, তবে তিনি ডি ক্যাপ্রিওয়ের সঙ্গে যে মুহূর্তটি কাটিয়েছেন তা স্মরণে রাখেন। তিনি বলেন, “আমি যখন ‘গোল্ডেন’ গানের সুরে নাচছিলাম, তখন ডি ক্যাপ্রিও আমাকে দেখলেন এবং আমরা সেই গানের ব্যাপারে কথা বললাম।” এই কথোপকথনটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে ওঠে, যেখানে দর্শকরা দুজনের হালকা মেজাজের আলাপকে প্রশংসা করেন।
গল্ডেন গ্লোবসের অনুষ্ঠানেই কেপপ ডেমন হান্টার্স অ্যানিমেটেড ফিল্ম বিভাগে সেরা অ্যানিমেটেড ফিল্ম এবং সেরা মূল গানের জন্য দু’টি পুরস্কার জিতেছে। “গোল্ডেন” গানের জন্যও বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। টেলর নিজেও সেরা সহায়ক অভিনেত্রী বিভাগে প্রথম পুরস্কার অর্জন করে, যা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ডি ক্যাপ্রিও, যিনি সাধারণত ব্যক্তিগত জীবনে সংযত এবং গম্ভীর চিত্র বজায় রাখেন, এই মুহূর্তে তার ভিন্ন দিকটি প্রকাশ পায়। তার এই স্বাভাবিক এবং মজার আচরণটি ভক্তদের মধ্যে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করে। টেলরও উল্লেখ করেন, “ডি ক্যাপ্রিওয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারা আমার জন্য আনন্দের বিষয়, বিশেষ করে যখন আমরা দুজনই একই গানের প্রতি উত্সাহী।” এভাবে দুজনের বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপটি গল্ডেন গ্লোবসের পরবর্তী দিনেও আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে।
গল্ডেন গ্লোবসের পুরস্কার তালিকায় কেপপ ডেমন হান্টার্সের জয় এবং টেলরের প্রথম পুরস্কার উভয়ই শিল্প জগতের নতুন প্রবণতা এবং তরুণ প্রজন্মের পছন্দকে প্রতিফলিত করে। এই ঘটনাগুলি দেখায় যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের মিশ্রণ এখনো আরও বিস্তৃত হয়ে চলছে, এবং শিল্পীরা এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত।
সামগ্রিকভাবে, লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও এবং টেয়ানা টেলরের এই স্বাভাবিক আলাপটি গল্ডেন গ্লোবসের রেড কার্পেটের পেছনের মানবিক দিককে তুলে ধরে। উভয়ই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে, পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে ভাগ করা ছোট মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে তুলেছে। এই ধরনের আন্তঃবিনোদনমূলক মিথস্ক্রিয়া শিল্পের জগতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করে এবং দর্শকদের জন্য আরও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তৈরি করে।



