উক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ১৫ জানুয়ারি কিয়েভে তীব্র শীতের মাঝখানে দেশের জ্বালানি খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। রাশিয়ার ধারাবাহিক বায়ু হামলা ও শূন্যের নিচের তাপমাত্রা মিলিয়ে হাজার হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎ, তাপ ও পানির সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষ ক্যাবিনেট সভার পর জেলেনস্কি রাতভর কাজ করবে এমন একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করার নির্দেশ দেন, যাতে রাশিয়ার আক্রমণ ও কঠোর শীতের প্রভাব দ্রুত মোকাবেলা করা যায়।
প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার ওপর অভিযোগ তুলেছেন যে মস্কো শীতের তীব্রতা ব্যবহার করে জ্বালানি সরবরাহের মূল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে জনগণের কষ্ট বাড়াচ্ছে।
কিয়েভে তাপমাত্রা রাতের বেলায় প্রায় -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে রাশিয়ার আক্রমণ বিশেষভাবে রাজধানীকে প্রভাবিত করেছে, যেখানে বহু বাড়ি তাপ, গরম পানি ও বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত।
গত সপ্তাহের এক রাতে মিসাইল ও ড্রোনের তীব্র হামলার ফলে রাজধানীর প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে পড়ে।
জেলেনস্কি নতুন পদক্ষেপের মধ্যে বিদেশ থেকে জরুরি জ্বালানি সরঞ্জাম ও উপকরণ ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রথম সহায়ক প্রধানমন্ত্রী‑ইন‑চার্জ‑এনর্জি মন্ত্রীকে এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সহায়তা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে তাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে, যা বর্তমান মধ্যরাতের কারা-ফিউকে কিছুটা শিথিল করতে পারে।
রাশিয়ার আক্রমণ কিয়েভের বাইরে সীমাবদ্ধ নয়; দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ শীতের তাপ ও পানির সরবরাহ ছাড়া ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতে বাধ্য হয়েছে।
দেশের বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি সরবরাহকারী ডিটিইকে’র সিইও উল্লেখ করেছেন যে রাশিয়ার ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে কোম্পানি ক্রমাগত সংকট মোডে কাজ করছে। চতুর্থ বার্ষিকী আসন্ন হওয়ায় রাশিয়ার এই ধারাবাহিকতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গভীর প্রভাব ফেলবে।



