সান সিরোতে অনুষ্ঠিত সিরি এ ম্যাচে ইন্টার মিলান লেচে দলকে এক গোলের পার্থক্যে পরাজিত করে, ফলে শিরোপা শীর্ষে তাদের আধিক্য ছয় পয়েন্টে বৃদ্ধি পায়। ২০ বছর বয়সী ফ্রান্সেসকো পিও এস্পোসিতো ৭৮তম মিনিটে রিবাউন্ড থেকে গল করে দলকে জয় এনে দেয়। ইন্টার এখন এ সি মিলান ও নাপোলির তুলনায় ছয় পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে অবস্থান করছে।
প্রারম্ভিক সময়ে অ্যানজে-ইয়োয়ান বোনি ড্রিবল করে শট মারেন, তবে গলকিপার ওয়্লাদিমিরো ফালকোনে তা পার করে দেন। বোনি পেনাল্টি দাবি করেন, তবে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায় ড্যানিলো ভেইগা বলটি স্পর্শ করেছেন, ফলে পেনাল্টি বাতিল হয়।
হাফটাইমের পর ফালকোনে নিকোলো বারেলা’র হেডারকে কাছাকাছি থেকে পাঞ্চ করে রক্ষা করেন এবং অ্যান্ডি ডিউফের শটও ধরা পড়ে। লাউতারো মার্টিনেজ বিশ্রাম থেকে বেরিয়ে মাঠে নামেন, তবে তার ভলয়ে ফালকোনে আবারও হাত বাড়িয়ে রক্ষা করেন।
বোনির পরিবর্তে এস্পোসিতো প্রবেশ করায় তিনি দ্রুতই সুযোগ পান; মার্টিনেজের শটের রিবাউন্ডে তিনি গল করে সান সিরোর ভক্তদের আনন্দে মেতে উঠায়। ইন্টারের মিডফিল্ডার কার্লোস অগাস্টো এই জয়কে “দলীয় বিজয়, এমনকি কম খেলা খেলোয়াড়রাও সবসময় প্রস্তুত থাকে” বলে উল্লেখ করেন।
ইন্টারের পরবর্তী ম্যাচে তারা বৃহস্পতিবারে ষষ্ঠ স্থান অধিকারী কোমোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা শিরোপা লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। অন্যদিকে নাপোলি পারমার সঙ্গে বাড়িতে ০-০ ড্র করে পয়েন্ট হারায়, যা শিরোপা শীর্ষে তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ কোলনকে ৩-১ স্কোরে পরাজিত করে, প্রথমে পিছিয়ে থাকা দলটি শেষার্ধে তিনটি গোলের মাধ্যমে ম্যাচটি উল্টে দেয়। গেমের প্রথম সুযোগটি স্কট ম্যাকটোমিনে নেয়, যিনি অর্ধ-ভলয়ে বলকে জালে পাঠান, তবে ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড বলে গোল বাতিল হয়।
বায়ার্নের রিভার্সে গেমের গতি পরিবর্তন হয়, ফলে তারা ধারাবাহিকভাবে গোল করে কোলনের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত বায়ার্নের তৃতীয় গোল নিশ্চিত করে দলকে সম্পূর্ণ বিজয় এনে দেয়।
পারমা দলের গার্ডিয়ান ফিলিপ্পো রিনাল্ডি প্রথমবারের মতো সিনিয়র দলে ডেবিউ করেন, যেখানে তিনি আলেসান্দ্রো বুয়ংগিওর্নোর হেডার এবং রাসমুস হোজলুন্ডের শট দুটোই সরাসরি রক্ষা করেন। রিনাল্ডির এই পারফরম্যান্স পারমার গোলরক্ষক হিসেবে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
ইন্টারের গলকিপার ওয়্লাদিমিরো ফালকোনের পারফরম্যান্সও প্রশংসনীয় ছিল; তিনি ম্যাচের বেশিরভাগ শটই রক্ষা করে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একই সঙ্গে ইন্টারের আক্রমণাত্মক লাইনও ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে, যদিও লেচের রক্ষণশীলতা তাদের গল করার সুযোগ কমিয়ে দেয়।
বায়ার্নের জয়টি দলকে লিগের শীর্ষে ফিরে আসতে সাহায্য করে, যেখানে তারা পয়েন্টের ব্যবধানে প্রথম তিনটি দলে অবস্থান বজায় রাখে। কোলনের জন্য এই পরাজয়টি তাদের শীর্ষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়, ফলে পরবর্তী ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে।
সারসংক্ষেপে, ইন্টারের এক গোলের জয় এবং বায়ার্নের ত্রিগোলের উল্টোফেরার মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই বড় লিগে উত্তেজনা বজায় রয়েছে, আর শীর্ষ দলগুলো পরবর্তী ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে।



