20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র‑ডেনমার্ক‑গ্রিনল্যান্ডের আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণে মতবিরোধ অব্যাহত

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র‑ডেনমার্ক‑গ্রিনল্যান্ডের আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণে মতবিরোধ অব্যাহত

ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সঙ্গে একত্রিত হন, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা নিয়ে মূল মতপার্থক্য রয়ে যায়।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লার্স লোকে র‍্যাসমুসেন জিডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা “সৎ ও গঠনমূলক” বলে উল্লেখ করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপটি নিজের দখলে নেওয়ার বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মৌলিক অমিল সমাধান হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডেনমার্কের স্বার্থে এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন”। তিনি রাশিয়া বা চীন যদি দ্বীপটি দখল করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রেরই সব ব্যবস্থা নিতে হবে, ডেনমার্কের ওপর নির্ভরশীলতা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

ডেনমার্কের সরকার দ্রুতই গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। দ্বীপটি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও, ডেনমার্কের সেনাবাহিনীকে সেখানে মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ডটও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক হলেও, কোনো অধিগ্রহণের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সীমা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি” এবং দ্বীপের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবেন।

ভ্যান্স ও রুবিও এই আলোচনার পরে কোনো মন্তব্য করেননি, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্টতা এখনও অনুপস্থিত। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি গ্রিনল্যান্ডকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখছেন এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চান।

ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোও দ্রুতই ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করে সমর্থন জানায়। সুইডেন ডেনমার্কের অনুরোধে গ্রিনল্যান্ডে সৈন্য পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রীও গ্রিনল্যান্ডে পরবর্তী মাসে কনসুলেট খোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা দ্বীপে ইউরোপীয় উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

জার্মানি একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, তারা গ্রিনল্যান্ডে একটি “রেকনেসাঁস টিম” পাঠাবে, যাতে অঞ্চলটির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ডেনমার্ককে সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা প্রদান করা যায়।

ডেনমার্কের সামরিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সকল মিত্র দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে সম্পন্ন হবে, এ বিষয়ে সরকার জোর দেয়। এই সমন্বয়কে ভবিষ্যতে ন্যাটো কাঠামোর মধ্যে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় ইচ্ছা এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সমর্থনমূলক পদক্ষেপের মধ্যে পারস্পরিক টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কেবল যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক সম্পর্কেই নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমতা-সংহতিতে প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের দাবি বাস্তবায়িত হয়, তবে ন্যাটো গঠন ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা নীতিতে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ ভবিষ্যতে দ্বীপের কৌশলগত অবস্থানকে স্থিতিশীল রাখতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments